ভারতের আদালতে হাদি হত্যার আসামি, ঢাকায় ফেরানোর প্রস্তুতি শুরু
ভারতে গ্রেফতার ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীরকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে সরকার। বাংলাদেশের দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে।
পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে ভারতের আইন অনুযায়ী একটি মামলা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার (৮ মার্চ) দেশটির আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্তের স্বার্থে এসটিএফ কর্মকর্তারা তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে এসটিএফ দাবি করেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে দুজন মিলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করেছেন। আসামি ফয়সাল করিম ও আলমগীর আবার বনগাঁ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। দুজনই অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।
বাংলাদেশের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী সম্প্রতি ভারত সফরকালে হাদি হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতার ও বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। সেই প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দা তথ্য যাচাই করে ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়।
তদন্তে জানা গেছে, ফয়সাল করিম ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর ছাড়াও তাইজুল ইসলাম ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে ধারণা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে আলোচিত হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে ভারতে গ্রেফতারের ঘটনাকে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার নতুন দিক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। তবে অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য নির্ধারিত ছিল। মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেন।
সেদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি আবেদন দাখিল করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: