• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

লাফিয়ে বাড়ার পর বিশ্ববাজারে হঠাৎ স্বর্ণের দরপতন

প্রকাশিত: ২১:২৪, ৩ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
লাফিয়ে বাড়ার পর বিশ্ববাজারে হঠাৎ স্বর্ণের দরপতন

বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা স্বর্ণের দামে হঠাৎ বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রভাবের মধ্যে অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের বদলে ডলারকে বেছে নিয়েছেন। একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় ব্যবসায়ীরা সুদের হার কমার সম্ভাবনায় আগের মতো বাজি ধরছেন না।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮৬ ডলারে নেমে এসেছে।

স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ডলারের দাম জোরালোভাবে বাড়ছে, পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারির ফলনও ঊর্ধ্বমুখী। এটি স্বর্ণ এবং বিশেষ করে রুপার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চে ওঠার পর আজ স্পট সিলভারের দাম ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৮০ দশমিক ২৬ ডলারে নেমেছে।

মার্কিন ডলারের মূল্য শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে এক মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ডও বেড়েছে। মঙ্গলবার মার্কিন স্টক ইনডেক্স ফিউচারের মধ্যে নাসডাক সূচক ২ দশমিক ৩ শতাংশ পতনের মাধ্যমে বড় ধাক্কা খেয়েছে।

এর আগে সোমবার ইরানের বিপ্লবী গার্ডের এক কর্মকর্তা ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালী সামুদ্রিক চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেয়া হতে পারে এবং কোনো জাহাজ অতিক্রমের চেষ্টা করলে গুলি চালানো হবে। এতে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি অনেক সময় প্রকৃত সুদের হার ও ডলারের মূল্য বাড়িয়ে দেয়। ফলে ঋণের খরচ দীর্ঘ সময় বেশি থাকে এবং সুদবিহীন ধাতু হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়।

শক্তিশালী ডলার সাধারণত অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী ক্রেতাদের জন্য ডলার-মূল্যের স্বর্ণের দাম আরও বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে উচ্চ ফলন সুদ না পাওয়া ধাতু ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় বাড়ায়।

সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা আশা করছেন মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ১৮ মার্চের বৈঠক শেষে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। জুনে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা, যা আগে ৪৫ শতাংশের নিচে ছিল, তা এখন ৬০ শতাংশের বেশি।

তবে অনেক বিশ্লেষক এখনও স্বর্ণের বাজার নিয়ে আশাবাদী। ফিচ সল্যুশনসের একটি ইউনিট বিএমআই জানিয়েছে, যদি সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ না দেখা যায়, তাহলে এই সপ্তাহেই স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৬০০ ডলারের ওপরে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও কমতে পারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে।

এর আগে সবশেষ আজ (৩ মার্চ) সকালে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। এবার ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম কার্যকর হয়েছে আজ সকাল ১০টা থেকেই।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪২৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: