নতুন গভর্নরের নিয়োগ বাতিল চায় টিআইবি
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে এবং স্বার্থের সংঘাত এড়াতে নবনিযুক্ত গভর্নরের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশেষ করে স্বার্থের সংঘাতমুক্ত ভূমিকা পালন নিশ্চিতের স্বার্থে নবনিযুক্ত গভর্নরের নিয়োগ বাতিল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট খাতে পরীক্ষিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং সর্বোপরি গভর্নরের দায়িত্বের আওতাভুক্ত সকল বিষয়ে স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে ভূমিকা পালনে সক্ষম এমন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, আপনারাই (সাংবাদিকরা) তুলে ধরেছেন যে গভর্নর হিসেবে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তিনি এই পদের উপযুক্ত নন। তাকে সরিয়ে উপযুক্ত লোক নিয়োগ দিতে হবে।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতের একাংশ কর্তৃক নীতি করায়ত্ত, যোগসাজশ ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচার রোধে এবং জবাবদিহিমূলক টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসা খাতে শুদ্ধাচার চর্চার কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পথরেখা নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।
বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও পেশাভিত্তিক জনগোষ্ঠীর পরিচয় ও স্বকীয়তা বজায় রেখে মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে একটি স্বতন্ত্র ‘ডাইভারসিটি (বৈচিত্র্য) কমিশন’ গঠন করতে হবে। এর লক্ষ্য হবে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীলতা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার সংস্কৃতি ও পরিবেশ সৃষ্টি করা।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের পথরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানান। পাশাপাশি চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশ, বৈচিত্র্যপূর্ণ লোকায়ত সংস্কৃতি চর্চা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়—এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, কর্তৃত্ববাদী সরকারের সময়ে এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ‘হাই-প্রোফাইল’ বা শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রাখতে হবে।
বিভি/এসজি



মন্তব্য করুন: