পেশা পরিবর্তন করে মোংলা উপকূলের নারীরা এখন স্বাবলম্বী
প্রতিদিন সকালে নদী পার হয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছেন মোংলা উপকুলের শত শত নারী। কেউ দুপুরে কেউবা আবার রাতে। পালা বদল করে এই ভাবে কর্মস্থলে ছুটেযান হা্জার হাজার নারী।কাজ করছেন, মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল(ইপিজেড)এ। যারা এক সময় সুন্দরবনের নদ—নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো।
কিন্তু দৃশ্যপট এখন অনেকটা পরিবর্তন হয়ে পড়েছে। পুরুষ সহকর্মিদের সাথে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা পরিশ্রম করে তারা মাসে আয় করছে হাজার হাজার টাকা। যা থেকে ওই নারীদের পরিবার এবং তাদের জিবন—জীবিকা নিরবাহ করছেন। কর্মসংস্থানের ফলে তারা হয়ে উঠেছেন স্বাবলম্বী। চেষ্টা করছেন, তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে।
মোংলার চিলা গ্রামের বাসিন্ধা মেরি সরদার জানান, তিনি বছর খানেক আগে তাদের বাড়ীর পাশে নদীতে নেটজাল দিয়ে বাগদা পোনা ধরতেন। প্রতিদিন ২০০ বা ৩০০ টাকার পোনা বিক্রি করতেন। গ্রামের অন্য এক মহিলার মাধ্যমে ইপিজেড এ কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এখন ভিআইপি নামক একটি প্রতিষ্ঠানে শেলাইয়ের কাজ করছেন। যে বেতন পান তা দিয়ে মোটামুটি তাদের চার জনের সংসার ভালো চলে যাচ্ছে।
কানাইনগর এলাকার হ্যাপি বাড়ই জানান, তার স্বামী দিন মজুরের কাজ করতেন। তিনি নদীতে পোনা মাছ ধরতেন। দুই বছর হলো কাজ নিয়েছেন, মোংলা ইপিজেড এর একটি লাগেজ কারখানায়। যে আয় হয় এদিয়ে তিন সন্তান আর স্বামী ও শাশুড়ি কে নিয়ে তাদের সংসার মোটামুটি চলছে। মেরি আর হ্যাপির মতো তাদের গ্রামের শত শত নারী এক সময় নদীতে পোনা মাছ ধরতো। এখন সবাই ইপিজেড এ কাজ করছে। তারা সবাই স্বালম্বী।
মোংলার শিল্পাঞ্চলের এক মাত্র রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) এ কর্মসংস্থান হয়েছে ওইসব নারীদের। এ ইপিজেড এখন রয়েছে ৩৯টির বেশি কারখানা। যার মধ্যে ৮টি কারখানা ”ভিআইপি ”নামক একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের । এ প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশের এইচ আর বিভাগের প্রধান মোঃ মিজানুর রহমান জানান, ভারতীয় মালিকা তাদের ৮টি প্রতিষ্ঠানে ৮০ ভাগ নারী শ্রমিক। প্রত্যন্তগ্রাম থেকে তুলে এতে প্রশিক্ষন দিয়ে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হয় তাদের প্রতিষ্ঠান গুলোতে। এছাড়া নারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে ভিআইপি কারখানা মোংলা ইপিজেডএ তৈরী করেছে প্রশিক্ষন সেন্টার। মিজানুর রহমান জানান, মাত্র কয়েক মাসের প্রশিক্ষন দিয়ে উপকুলের নারীদের তারা সাটিফিকেট প্রদান করেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক সামিউল হক জানান, উপকুলের নারীরা এক সময় স্বামীর বা পিতার উপর নির্ভর ছিলো। এখন তাদের উপর নিভর করছে পুরো পরিবার। এতে করে তাদের অর্থ সামাজিক উন্নোয়ন হচ্ছে। যেহেতু এসব নারীরা যেসব পণ্য তৈরী করছে সে গুলো বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। তা থেকে দেশের রাজ্বস্ব আদায় হচ্ছে। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে জোগান দিচ্ছে কম শিক্ষিত বা অশিক্ষিত এসব নারীরা। তাই উপকুলের সব নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। আরো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এবং প্রশিক্ষন দিয়ে উপকুলের নারীদের কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থ সামাজিক ব্যবস্থা ও অর্থনীতির উন্নোতি ঘটবে বলে মনে করেন এ অধ্যাপক ও গবেষক।
পশুর রিভার ওয়াটার কিপার নুর আলম শেখ জানান, মোংলা ইপিজেড এ কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়ায় নদ নদীতে মাছের পোনা ধরা অনেকটা কমেগেছে। এক সময় নদীতে চিংড়ি মাছের পোনা ধরতে গিয়ে তারা অন্য মাছের পোণার ক্ষতি করতো। এক সময় মাছের পোনা ধরার পেশায় থাকা নারীরা বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ায় অন্য মাছের পোনা ধবংস হচ্ছেনা। তিনি বলেন, এখন নদ নদীতে মাছের উপস্থিতী বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করি।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: