মৌসুমের শুরুতেই চায়ের দামে বাজিমাত, ৮ বছরে সর্বোচ্চ
সবুজে মোড়া চা বাগান মেতেছে নতুন কুঁড়ির গন্ধে, ম ম করছে উত্তরের সমতল। দুই মাসের বিরতির পর আবারও প্রাণ ফিরেছে চা বাগানে। পরিচর্যা শেষে পহেলা মার্চ থেকে শুরু হয়েছে নতুন মৌসুমের চা উৎপাদন। প্রথম ধাপেই এবার দামে বাজিমাত। পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলজুড়ে কাঁচা চা পাতা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৮ থেকে ৪০ টাকায়, যা গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
গত মৌসুমে যেখানে দাম ছিল ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, সেখানে নতুন এই দাম পেয়ে খুশি চাষীরা। তবে আনন্দের মাঝেই রয়েছে কিছু সংকট। কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে উৎপাদন খরচ।
চাষীদের দাবি- ওজনে কর্তন বন্ধ এবং সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে বাংলাদেশ চা বোর্ড-এর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে উত্তরের পাঁচ জেলায় উৎপাদন হয়েছে ২০ হাজার টনের বেশি চা, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পঞ্চগড়ের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাটে বিস্তৃত হচ্ছে সমতলের চা চাষ। বর্তমানে এসব জেলায় ক্ষুদ্র ও বড় মিলিয়ে হাজারো বাগানে চা উৎপাদন হচ্ছে। পঞ্চগড়ে রয়েছে একাধিক চা প্রক্রিয়াজাত কারখানাও। ভালো মানের পাতা সরবরাহ পেলে উন্নত চা উৎপাদন সম্ভব বলে মনে করছেন কারখানা সংশ্লিষ্টরা।
চা পাতার মান উন্নয়ন ও ন্যায্য দাম নিশ্চিতে কাজ করছে চা বোর্ড-এমনটিই জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন।
দাম ভালো, সম্ভাবনাও উজ্জ্বল, তবে টেকসই করতে দরকার সঠিক সহায়তা। তাহলেই উত্তরাঞ্চলের চা শিল্প হয়ে উঠতে পারে অর্থনীতির শক্ত ভিত।
বিভি/টিটি



মন্তব্য করুন: