বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে টানা পতন, দেশে ভরি কত?
বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সেশনে স্বর্ণের দাম কমেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে দরপতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা পেতে এসব তথ্যের দিকে নজর রাখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা ২১ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪০ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার দর ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬২ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়ায়।
ফরেক্স ডটকমের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় অনেক ব্যবসায়ী আপাতত লেনদেন থেকে বিরত রয়েছেন। এ তথ্য মার্কিন ডলারের গতিপথ, স্বর্ণের দাম এবং ডলারের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য সম্পদের মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিপিআই প্রতিবেদন গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে প্রকাশের কথা রয়েছে। এর পরদিন বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হওয়ার কথা উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্য।
এদিকে, বুধবার হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। রয়টার্সকে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে নতুন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। তেলের দাম উঁচু রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে তেহরান এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজাকজাদার মতে, মার্কিন ডলারের ঊর্ধ্বগতি থেমে গেলে স্বর্ণের দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বছরের পরবর্তী মাসগুলোতে স্বর্ণের দাম আবারও প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এমনকি তা ৪ হাজার ৭০০ ডলারেও উঠতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগকে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে স্বর্ণ থেকে নিয়মিত সুদ বা আয় পাওয়া যায় না। ফলে সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যেতে পারে।
নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস আবারও বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও একবার সুদের হার বাড়াতে হতে পারে।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ২২ শতাংশ। ডিসেম্বরে এ সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ বলে ধারণা করছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা।
রুপা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দাম
স্বর্ণের পাশাপাশি বুধবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৫৭ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫৩ দশমিক ১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৩২ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কত?
বিশ্ববাজারে টানা দরপতনের মধ্যেই দেশের বাজারে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটির নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমলেও বুধবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে বাজুসের সর্বশেষ নির্ধারিত দামে এর প্রতিফলন ঘটেনি।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: