আয়কর রিটার্নে ভুল? সংশোধন করবেন যেভাবে
আয়কর রিটার্ন জমা দিতে গিয়ে অনেক সময় করদাতারা আয়ের হিসাব, কর অব্যাহতি, কর ক্রেডিট কিংবা সম্পদের বিবরণীতে ভুল করেন। তবে ভুল হলে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। রিটার্ন জমা দেওয়ার পর এমন ভুল ধরা পড়লে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে আয়কর আইনে। তবে এ জন্য মানতে হবে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও শর্ত।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে করদাতারা সংশোধিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৮০ অনুযায়ী, মূল রিটার্ন জমা দেওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে একবার সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে। তবে মূল রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়ে গেলে এই সুযোগ থাকে না।
রিটার্নে যেসব ভুল সংশোধন করা যাবে
আয়কর আইনে মূলত তিন ধরনের কারণে সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। সেগুলো হলো—
১. আয়ের হিসাবের ভুল: রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের কারণে প্রদেয় কর সঠিকভাবে হিসাব করা না হলে তা সংশোধন করা যাবে।
২. কর অব্যাহতি বা কর ক্রেডিটের ভুল: কর অব্যাহতি কিংবা কর ক্রেডিট দাবি করার ক্ষেত্রে ভুলের কারণে করের হিসাব সঠিক না হলে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যাবে।
৩. অন্যান্য কারণে ভুল: অন্য কোনো কারণে প্রদেয় কর সঠিকভাবে হিসাব করা না হলে বা পরিশোধ না হলে কিংবা রিটার্নে কোনো তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত না হলে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশোধনের কারণ লিখিতভাবে উল্লেখ করতে হবে। (আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা দেখুন)।
যেসব ক্ষেত্রে রিটার্ন সংশোধন করা যাবে না
রিটার্ন সংশোধনের ক্ষেত্রে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে।
মূল রিটার্ন জমা দেওয়ার তারিখ থেকে ১৮০ দিন পার হয়ে গেলে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যাবে না। একবার সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করার পর একই রিটার্ন দ্বিতীয়বার সংশোধনের সুযোগ নেই। মূল রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়ে গেলে এই ধারায় সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করা যাবে না।
তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কোনো ভুল ধরা পড়লে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। (এনবিআরের আয়করবিষয়ক প্রশ্নোত্তর)।
অনলাইনে যেভাবে রিটার্ন সংশোধন করবেন
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া করদাতারা সংশোধনের জন্য এনবিআরের নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারেন। এ জন্য—
১. এনবিআরের ই-রিটার্ন পোর্টালে প্রবেশ করুন এই লিংকে
২. নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করে সংশোধনের সুযোগ ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা যাচাই করুন।
৩. ভুলের ধরন শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও হিসাব সংশোধন করুন।
৪. সংশোধনের কারণ লিখিতভাবে উল্লেখ করে নির্ধারিত নিয়মে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করুন।
৫. সংশোধনের ফলে করের পরিমাণ বেড়ে গেলে প্রযোজ্য অতিরিক্ত কর পরিশোধ করুন।
বিশেষ সতর্কতা: সংশোধনের পদ্ধতি রিটার্নের ধরন ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই পোর্টালে সংশোধনের সুযোগ না থাকলে বা পদ্ধতি নিয়ে অস্পষ্টতা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল কিংবা এনবিআরের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
টিআইএনধারীর তুলনায় রিটার্ন জমা কম
প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে, দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ।
এ ছাড়া প্রায় ৮৮ হাজার করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য বাছাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যানের সময়কাল ও হালনাগাদ অবস্থা এনবিআরের সর্বশেষ তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সঠিক তথ্য দেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি জমা দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে নির্ধারিত নিয়মে তা সংশোধন করাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে করের হিসাব সঠিক রাখা এবং পরবর্তী জটিলতা এড়ানো সহজ হয়।
বিভি/এসজি













মন্তব্য করুন: