বাজার থেকে চিড়া উধাও
বাজারে চিড়া পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বেশি নেওয়ার। যেসব খুচরা বিক্রেতার কাছে চিড়া আছে তারাও দাম বেশি চাচ্ছে। মিলমালিকরা বেশি দামে বাজারে চিড়া সরবরাহ করলেও মেমো দিচ্ছে না। জানা গেছে, হঠাৎ করে চিড়ার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে মিল থেকে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চিড়ার দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়েছেন মিল মালিকরা। যে কারণে খুচরা বাজারে চিড়ার দাম বেশি।
খুচরা বিক্রেতা দোকানদাররা বলছেন, মিলমালিকদের সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে চিড়ার সংকট তৈরি হয়েছে। বলা যায় চিড়া উধাও হয়ে গেছে। তিন দিন আগেও প্রতি কেজি চিড়া বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কিন্তু গত দুই দিন ধরে সেই চিড়াই বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
বাজারে চিড়া পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ একাধিক বাজার ঘুরে সত্যতা পাওয়া গেছে এই তথ্যের।
কারওয়ান বাজারে গিয়ে চিড়ার খোঁজ করে চিড়া পাওয়া যায়নি। তখন হঠাৎ চিড়ার বাজার অস্থির কেন জানতে চাওয়া হয় কারওয়ান বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে।
বাসার ট্রেডার্সের রুবেল নামে এক ব্যবসায়ী জানান মিল মালিকরা কারসাজি করছে। চালানে মিল মালিকরা দাম লিখছে না উল্লেখ করে চালান দেখিয়ে রুবেল বলেন, ‘চালান দেখেন মিল থেকে সিন্ডিকেট হচ্ছে। মেমোতে দাম লিখছে না। ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছে। তাদের দাঁত ভাঙা জবাব দিতে হবে। তবেই কমবে দাম।’
বাজারে চিড়ার সংকট এবং দাম বেশি উল্লেখ করে রুবেল বলেন, ‘বাজারে চিড়া নেই। কিনতে চাইলে রাতে পাবেন। মিল থেকে আসা মাত্র বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। তিন দিনের ব্যবধানে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে গেছে। আমরা কেজিতে ২ টাকা লাভ করে বিক্রি করছি। কয়দিন আগে ৪৫ টাকা কিনে ৪৭ টাকা বিক্রি করেছি। ৫২ টাকা সর্বোচ্চ। এখন কোনো চিড়া নেই। বৃহস্পতিবার ৫৮ টাকা কেজি কিনে ৬০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। ৬০ থেকে ৬২ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।’
বাসার ট্রেডার্স থেকে বের হয়ে দেখা গেল মেসার্স রফিক ট্রেডার্স নামে এক দোকানে চিড়া ৭০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। দোকানি জানালেন চাহিদা বেশি, তাই দাম চড়া। বিক্রিও শেষ। পরে মিল থেকে এলে পাওয়া যাবে।’
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে আছে সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে হবিগঞ্জ,মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, কুড়্রিগাম, রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। বন্যকবলিত এসব এলাকায় ব্যাপকভাবে শুকনো খাবার বিতরণ করছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলগুলো। এই শুকনো খাবারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যাচ্ছে চিড়া। এ কারণেই হঠাৎ করে চিড়ার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা লুটে নিচ্ছেন।
বিভি/এনএ



মন্তব্য করুন: