• NEWS PORTAL

  • শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫

Drama: Jamai Bou Chor
Drama: Jamai Bou Chor

সাইবার বুলিংয়ে দিশেহারা ডাকসুর নারী প্রার্থীরা (ভিডিও)

কেফায়েত শাকিল

প্রকাশিত: ১০:৩৪, ২৭ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ১০:৩৮, ২৭ আগস্ট ২০২৫

ফন্ট সাইজ

ডাকসু নির্বাচনে শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল সংসদের জিএস প্রার্থী হয়েছেন মালিহা বিনতে খান অবন্তী। ছাত্রদলের প্যানেলে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানান হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ এই নারী শিক্ষার্থীর।

মালিহা বিনতে খান অবন্তী বাংলাভিশনকে বলেন, আমরা আমাদের প্যানেলের কেন্দ্রীয় সংসদের ভিপিপ্রার্থীসহ নির্বাচনী প্রচারণার একটি ভিডিও তৈরি করেছিলাম। ভিডিওটি প্রচার করা হলে তার কমেন্টে আমাদের রাতের রানী বলে আখ্যায়িত করা হয়। এটাতো খুবই সেনসিটিভ একটি শব্দ।

কারা এই মন্তব্য করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হয়তো কোনো গুপ্ত সংগঠনের সদস্য হবে’।

ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত ডাকসু ফর চেঞ্জ প্যানেলের জিএস প্রার্থী হয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। এই নারী শিক্ষার্থীও বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন তিনিও।

সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমি একটি মিডিয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলাম আমাদের প্যানেলের ভিপিপ্রার্থী বিন ইয়ামিন মোল্লা ২০১৮ সাল থেকে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময় হামলা, মামলা এমনকি কারা নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন। কিন্তু শিবিরের প্যানেলের এখন যারা আছেন তারা শুধু ৫ আগস্টের পর ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে এসেছেন। নিশ্চয় ছাত্ররা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সেগুলো বিবেচনা করবে। এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ার পর আমাকে নিয়ে কমেন্টসে অনেক বাজে মন্তব্য করা হয়। আমার ধারনা এগুলো শিবিরের বট আইডি থেকে করা হচ্ছে।

এসব ঘটনার জন্য ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার যখন শিবির সমর্থকদের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছে তখন ছাত্রশিবির বলছে, তাদের সমর্থিত নারী প্রার্থিরাও দিশেহারা অনলাইন বুলিংয়ে। ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট থেকে নির্বাচন করছেন চার নারী প্রার্থী। ফেসবুকে পোস্ট, কমেন্ট এবং ইনবক্সে করা হেনস্থার নানা প্রমাণ তুলে ধরে এই প্রার্থীরাও বলছেন, অনলাইন বুলিংয়ের মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন তারা।

ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেল থেকে ডাকসুতে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভানেত্রী সাবিকুন নাহার তামান্না। তিনি অভিযোগ করেন, শুধু শিবিরের প্যানেলে প্রবেশই নয় ছাত্রী সংস্থায় থাকা পদ প্রকাশের পর থেকেই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন তিনি।

তামান্না বলেন, ‘প্যানেল প্রকাশের পর থেকে আমাদের প্রতিটি নারী প্রার্থীকে প্রতিনিয়ত সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে। আমাদের প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদপ্রার্থী ফাতিমা তাসনিম জুমার ছবি-ভিডিও নিয়ে যে পরিমাণ নোংরামি করা হয়েছে, সে মানসিকভাবে ট্রমায় আছে। আমাদের নিয়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে স্ক্যান্ডাল পর্যন্ত বানাচ্ছে। আমরা ৪ জনই একটা ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি’। 
 
শুধু এই কয়েকজনই নয়, ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র ও বিভিন্ন দলের সমর্থনে প্রার্থী হওয়া প্রায় সব নারীই বলছেন, ভোট চাইতে গিয়ে অনলাইনে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন তারা। আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ব্যবহার করে তাদের ভুয়া ছবি এবং ভিডিও বানিয়েও প্রচার করা হচ্ছে। যা এসব নারী শিক্ষার্থীকে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর মাধ্যমে নারীর অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকা তৈরি হচ্ছে দাবি করে অধিকার কর্মীরা বলছেন, অনলাইনে নেতাকর্মীদের বিতর্কিত আচরণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকেই।

এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী সিদ্দিকা সুলতানা বাংলাভিশনকে বলেন, গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানে নারী-পুরুষ একসঙ্গে লড়েছে। ৫ আগস্টের পর আমরা আশাবাদী ছিলাম যে দেশে একটা আশানুরুপ পরিবর্তন হবে। ডাকসু নির্বাচনে অনেক ছাত্রীকে প্রার্থী হতে দেখে আরও আশার আলো দেখছিলাম। কিন্তু এখন যা দেখছি তা খুবই হতাশাব্যাঞ্জক। অন্তত ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে এটা আমরা আশা করিনি। এখনতো মাত্র ডাকসু নির্বাচন দিয়ে শুরু, এমন সাইবার বুলিং চলতে থাকলে সামনেতো কোনো নির্বাচনে নারীরা দাঁড়ানোর সাহসও করবে না। আমি মনে করি এটা নারীর অগ্রযাত্রার প্রতিবদ্ধকতা।

তিনি বলেন, আমি মনে করি এই বুলিংটা কোনো দল করছে না। কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে করছে। কিন্তু তাদেরতো কোনো না কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে যারা এসব করছে তাদের বাধা দেওয়া, তাদের এই শিক্ষায় শিক্ষিত করা যে এটা আমাদের কাজ নয়। এটা আমাদের আচরণও নয়, তুমি তোমার আচরণ পরিবর্তন কর। 

এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভও প্রকাশ করেন এই অধিকার কর্মী। সাইবার বুলিং প্রতিরোধে ভুক্তভোগী প্রার্থীদের দ্রুত আইনের আশ্রয় নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: