• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ স্থাপন

মো. ওবায়দুল্লাহ, ঢাকা কলেজ 

প্রকাশিত: ১৭:০৯, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৭:০৯, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ স্থাপন

রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের সমন্বয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে 'অধ্যাদেশ মঞ্চ' স্থাপন করে গণজমায়েত কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত চলমান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা শিক্ষার্থীদের। 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাজধানীর সাত কলেজে একযোগে চারটি মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়। ঢাকা কলেজের মূল ফটকের সামনে একটি মঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা কলেজে একটি, তিতুমীর কলেজে একটি এবং সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের সমন্বয়ে আরও একটি মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, এই মঞ্চের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, অধ্যাদেশের রোডম্যাপ এবং আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। মঞ্চ থেকে যে ঘোষণা আসবে, সে অনুযায়ীই তারা পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সাতটি কলেজকে নিয়ে চারটি ভিন্ন ক্যাম্পাসে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়।

সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিটির মুখপাত্র আব্দুর রহমান বলেন, নীতিগত অনুমোদনের জন্য পাঠানোর পর অধ্যাদেশটির ভেটিং প্রক্রিয়া আগামীকালের মধ্যেই শেষ হবে। এরপর বুধবারের মধ্যে উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপনের জন্য এটি তালিকাভুক্ত করা হবে। তালিকাভুক্তির পর বৃহস্পতিবার অধ্যাদেশটির অনুমোদন হবে,‌ এমন শতভাগ আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা। তবে বুধবারের মধ্যে যদি এটি লিস্টেড না হয়, সেক্ষেত্রে সাতটি ক্যাম্পাসের চারটি স্পটে স্থাপিত ভাসমান চারটি মঞ্চ থেকে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দল-মত নির্বিশেষে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সরকারি এই সাত কলেজের সমন্বয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রণীত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’-এর খসড়া গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। খসড়া প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়।

এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে একাধিক কনসালটেশন সভার আয়োজন করে। সভাগুলোতে পাওয়া মতামত ও সুপারিশের আলোকে আইনটির খসড়া হালনাগাদ করা হয়। গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবনের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যেই আনুষঙ্গিক সব কার্যক্রম সম্পন্ন করে জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারি করার আশ্বাস দেওয়া হয়।তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পুনরায় রাজপথে নামেন। তাদের দাবি,‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন- ২০২৫’ অনুমোদন দিতে হবে এবং দ্রুত চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

গতকাল  (১৮ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ চূড়ান্ত খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে, যা শিগগিরই অনুমোদন পাবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিক কারিকুলাম চালুর লক্ষ্যে রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতা, সমন্বয়হীনতা ও ব্যবস্থাপনার অদক্ষতার কারণে এসব কলেজের শিক্ষার্থীরা নানা ভোগান্তির মুখে পড়েন। এর প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময় তারা ঢাবি অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে, বিশেষ করে অক্টোবর মাস থেকে শিক্ষার্থীরা আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে তীব্র আন্দোলন শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে সরকার ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সরকারি সাত কলেজ নিয়ে নতুন স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাবি অধিভুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি প্রদান করা হয়।

মাসব্যাপী মূল্যায়ন শেষে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ ইউজিসির আগারগাঁও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ চূড়ান্ত করা হয়। প্রস্তাবিত নামটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর উপদেষ্টা পরিষদের সমর্থন এবং রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বিভি/এজেড

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত