• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ইনানীর রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: মাভাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ

হাসিব প্রিন্স, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ১২:৩৯, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১২:৪০, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইনানীর রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: মাভাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের চারজন নিখোঁজ

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই শিশুকন্যা রুজাইনা ইনায়া (৬) ও সুনাইনা ইহানা (৩)। স্বজনেরা তাদের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

নিখোঁজ আফসানা মতিন তানজির বড় বোন ফারজানা মতিন জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর থেকেই তারা ছোট বোন, বোনজামাই ও দুই ভাগনির সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন। ফারজানা সাতক্ষীরার বাসিন্দা ও পেশায় স্কুলশিক্ষক।

ফারজানা মতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাতটার দিক থেকে নাহিদুর রহমান ও আফসানা মতিনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেখে তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। এরপর আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল এবং সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে চারজনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নাহিদুর রহমান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে চাকরি করতেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করতেন তারা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছিলেন আফসানা। রিসোর্টটির পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কেও তিনি স্বজনদের জানিয়েছিলেন।

দুই শিশুকন্যাকে ঘিরে দুই পরিবারের আনন্দের কথা উল্লেখ করে ফারজানা মতিন জানান, তাদের সঙ্গে নিয়মিত ভিডিও কলে কথা হতো। প্রিয়জনদের সঙ্গে সেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে পরিবারটি অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, ডিএনএ পরীক্ষার আগে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, সেগুলো মূলত স্বজনদের দাবি। সবার পরিচয় নিশ্চিত করতে সময় লাগতে পারে।

স্বজনদের আশঙ্কা, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে নিখোঁজ চারজন থাকতে পারেন। তবে তাদের কেউ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পরিচয় শনাক্তকরণ ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থান নির্ণয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা।
 

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত