ফর্মুলা কার্টে সাফল্য: এবার ‘ফর্মুলা স্টুডেন্ট কার’ বানাচ্ছে রুয়েটের ‘টিম অ্যানেক্স’
ফর্মুলা কার্ট তৈরিতে সাফল্যের পর এবার আরও বড় পরিসরে নতুন রেসকার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একদল তরুণ প্রকৌশলী শিক্ষার্থী। যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের দল ‘টিম অ্যানেক্স রুয়েট’ দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মানের ‘ফর্মুলা স্টুডেন্ট কার’ তৈরির কাজ শুরু করেছে।
২০২৭ সালে চীনে অনুষ্ঠিতব্য 'ফর্মুলা স্টুডেন্ট চায়না' (এফএসসি) প্রতিযোগিতায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করাই ৪৫ সদস্যের এই দলটির মূল লক্ষ্য। ইতোমধ্যে গাড়িটির চ্যাসিস নির্মাণ ও চাকা সংযোজনসহ (হুইল অ্যাসেম্বলি) বেশ কিছু প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ সাপেক্ষে বাকি যন্ত্রাংশ ও কারিগরি উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছেন দলটির সদস্যরা।
টিম অ্যানেক্সের প্রকৌশল ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নতুন নয়। ২০২৩ সালে ভারতের তামিলনাড়ুতে অনুষ্ঠিত ‘ফর্মুলা কার্ট ডিজাইন কম্পিটিশন’-এর সপ্তম আসরে অংশ নিয়ে বিজনেজ টিম ক্যাটাগরিতে ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করে তারা। ২০২৫ সালেও প্রতিযোগিতাটির জন্য একটি সম্পূর্ণ ফর্মুলা কার্ট তৈরি করলেও শেষ মুহূর্তে ভিসা জটিলতার কারণে ভারতে যেতে পারেননি তারা।
এর আগে ২০২০ সালে 'ফর্মুলা স্টুডেন্ট চেক রিপাবলিক'-এর জন্য কার্ট তৈরি করলেও কোভিডের কারণে স্থগিত হয়ে যায় সব পরিকল্পনা। এছাড়া ২০১৯ সালে নাসা আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ 'নাসা হিউম্যান এক্সপ্লোরেশন রোভার চ্যালেঞ্জে' (এইচইআরসি) অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে এই তরুণদের।
বিগত দিনের এসব অভিজ্ঞতা ও প্রতিকূলতাকে জয় করে এবার নিজেদের প্রকৌশল সক্ষমতা বড় পরিসরে তুলে ধরতে চায় রুয়েটের এই দলটি। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী বর্তমানে আটটি সাব-টিমে বিভক্ত হয়ে কাজ চলছে। সাব-টিমগুলো হলো: টেকনিক্যাল, ডিজাইন, ইলেকট্রিক্যাল, বিজনেস, পিআর অ্যান্ড মিডিয়া, ম্যানুফ্যাকচারিং, লেজিসলেটিভ এবং কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স অ্যান্ড সেফটি। গাড়িটির চূড়ান্ত নকশা, যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, উপাদান তৈরি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রজেক্টের অগ্রগতি সম্পর্কে টিম অ্যানেক্সের দলনেতা ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নোমান জামান দিপু বলেন, “আমাদের প্রাথমিক ডিজাইন, সিমুলেশন এবং চ্যাসিস ফেব্রিকেশনের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে আমরা সাসপেনশন এবং স্টিয়ারিং সিস্টেম নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা পুরো কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারব।”
গাড়িটির চ্যাসিস ও চাকার কাজ সম্পন্ন হলেও পুরো সিস্টেমের সমন্বয়, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা স্থাপন এবং চূড়ান্ত ট্রায়াল রান এখনও বাকি। সময়মতো গাড়ি প্রস্তুত করে প্রতিযোগিতার আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছানোই এখন দলটির প্রধান লক্ষ্য। উদ্ভাবনী এই উদ্যোগকে সার্বিক দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহেদ হাসান খান তুষার, অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম এবং অধ্যাপক মো. ওয়াহেদুল ইসলাম।
তবে এই মেধা ও পরিশ্রমকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রূপ দিতে এখন প্রয়োজন উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা পেলে রুয়েটের 'টিম অ্যানেক্স' শুধু নিজেদের প্রকৌশল দক্ষতাই নয়, বৈশ্বিক দরবারে বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবনী সক্ষমতাও নতুনভাবে তুলে ধরতে পারবে।
বিভি/এজেড













মন্তব্য করুন: