চিত্রনাট্য না লিখেও শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রত্যাখান
ছবি: সংগৃহীত
বৃহস্পতিবার সন্ধায় (২৯ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের চূড়ান্ত মনোনীতদের নাম ঘোষণা করেছে। এ পুরস্কারের জন্য ২৮টি ক্ষেত্রে সর্বমোট ৩০ জন শিল্পী ও কলাকুশলীকে মনোনীত করা হয়। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘রক্তজবা’-র জন্য পরিচালক নিয়ামুল মুক্তাকে ‘শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
পরিচালক নিয়ামুল মুক্তার দাবি- ‘রক্তজবা’র চিত্রনাট্য লিখেছেন মুহাম্মাদ তাসনীমুল হাসান তাজ, যিনি ছবিটিতে সহকারী পরিচালক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তাজের নামের জায়গায় নিজের নাম ঘোষণা করায় এতে তিনি বেশ বিব্রত বলে জানান। এই কারণে পুরস্কারটি তিনি গ্রহণ করবেন না।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় পরিচালক বলেন, ‘এই সিনেমার চিত্রনাট্য আমার লেখা নয়। চিত্রনাট্য লিখেছেন মুহাম্মাদ তাসনীমুল হাসান তাজ। আমি যে কাজ করিনি, তার জন্য পুরস্কার গ্রহণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমি এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করছি এবং চাই, তাজই এই সম্মান পাক।’
বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে মুক্তা বলেন, ‘পুরস্কারের তালিকায় নিজের নাম দেখে আমি বিব্রত। আমি নিয়ম মেনেই সিনেমাটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে এমন ভুল কীভাবে হলো, সেটাই আমার প্রশ্ন।’
উল্লেখ্য, নুসরাত ইমরোজ তিশা ও শরিফুল রাজ অভিনীত ‘রক্তজবা’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি। ছবিটি ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে মুক্তি পায়। এই প্রথম কোনো ওটিটি–মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার নাম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আসায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
এ নিয়ে খোদ নির্মাতাও প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমার পরিচালিত ‘রক্তজবা’ চলচ্চিত্রটি সিনেমা হলে দেখতে পারি নাই। দর্শককে দেখাতেও পারি নাই। আমি আসলে জানিই না ‘রক্তজবা’ সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে কিনা। সিনেমা হলে মুক্তি না পেলেও কী সেই চলচ্চিত্রটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতে পারে? আমার আসলে জানা নাই।’
বিভি/এআই



মন্তব্য করুন: