কালজয়ী সিনেমার পোস্টারে রঙিন এফডিসি, সম্মাননা পেলেন গুণীজনরা
কালজয়ী বাংলা সিনেমার পোস্টার, চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নির্মাতা ও শিল্পীদের ছবি—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহে সেজেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির আয়োজনে ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে’ উপলক্ষে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এফডিসিজুড়ে দেখা যায় পুরোনো ও আলোচিত সিনেমার পোস্টারের নান্দনিক প্রদর্শনী। একই আয়োজনে চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন অবদান রাখা গুণীজনদের দেওয়া হয় সম্মাননা।
পরিচালক সমিতির ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। এফডিসির প্রবেশপথে খ্যাতিমান পরিচালক, সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকারদের ছবি এবং বিভিন্ন সময়ের আলোচিত সিনেমার পোস্টার দিয়ে সাজানো হয় অনুষ্ঠানস্থল।
প্রদর্শনীতে কালজয়ী সিনেমার পাশাপাশি গত এক দশকের আলোচিত চলচ্চিত্রের পোস্টারও স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘আলোর মিছিল’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘এপার ওপার’, ‘আগুনের আলো’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘এখনই সময়’, ‘চাঁদনী’, ‘চেতনা’, ‘প্রিয়তমা’, ‘রাজকুমার’, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’সহ বিভিন্ন সিনেমা।

এদিকে, দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখা গুণীজনদের সম্মাননা জানানোর মধ্য দিয়ে আয়োজনটি বিশেষ তাৎপর্য পায়। দুই শতাধিক চলচ্চিত্র প্রযোজনার মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন পরিচালক কাজী হায়াত, সোহেল রানা, মতিন রহমান, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, আবু মুসা দেবু, মহিউদ্দিন শাকের, আবুল খায়ের বুলবুল ও আওকাত হোসেন। সম্মাননা গ্রহণ করেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনও। সম্মাননা গ্রহণের পর ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি ও মন্ত্রী মহোদয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এভাবে আমরা সবাই একত্রিত থাকলে আমাদের চলচ্চিত্র আরও এগিয়ে যাবে।’
আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অনেক পরিচালকের সঙ্গে এই প্রজন্মের অনেকের যোগাযোগ নেই। যারা গুণী নির্মাতা, তাদের চলচ্চিত্র আমাদের চলচ্চিত্রকে এগিয়ে যেতে অনেক সাহায্য করেছে। এ কারণে পরিচালক সমিতি গুণীজনদের সম্মাননা দিয়েছে।’
সমিতির মহাসচিব শাহীন কবির টুটুল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যাদের মাধ্যমে আমাদের চলচ্চিত্র সমৃদ্ধ হয়েছে, তাদের অনেকেই হয়তো জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পাননি। আবার অনেকে পেয়েছেন। পরিচালক সমিতির পক্ষ থেকে আমরা গুণীদের সম্মাননা জানিয়েছি। আমাদের চেষ্টা থাকবে প্রতি বছর ৩ আগস্ট এই দিনটি পালন করার। কারণ এই দিনে ‘মুখ ও মুখোশ’ মুক্তি পেয়েছিল।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘আগের সিনেমাগুলো আমরা শুধু দেখতামই না, সেগুলো আমাদের হৃদয়ে থেকে যেত। কোনো না কোনো ইতিবাচক বার্তা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকত। আমরা সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করব, আগামীতে এমন সিনেমা নির্মিত হবে, যেগুলো সবই আমাদের কথা বলবে। আমরা চাই এমন সিনেমা নির্মিত হোক, যেগুলো সমাজকে পরিবর্তন করবে।’
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সিনেমার উন্নতির জন্য আমাদের কাছে একটি পরিপূর্ণ রিপোর্ট চেয়েছিলেন। সিনেমা ও এফডিসির উন্নতির জন্য যা যা করা দরকার, আমরা খুব শিগগিরই সেগুলো বাস্তবায়ন করব। আমি নিজেও একজন ফিল্মমেকার হতে চেয়েছিলাম, এ কারণে এই সেক্টর নিয়ে আমার আগ্রহ একটু বেশি।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা তানিসহ চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পী, কলাকুশলী ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা। আয়োজনের সাংস্কৃতিক পর্বে নৃত্য পরিবেশন করেন চিত্রনায়িকা দিঘী। গান পরিবেশন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী কোনাল।
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: