• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্যারিসে আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশি পোশাক, ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির সুযোগ

ইয়াছির আরাফাত, প্যারিস, ফ্রান্স

প্রকাশিত: ২১:৪০, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২১:৪২, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
প্যারিসে আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশি পোশাক, ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির সুযোগ

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পোশাক ও বস্ত্র প্রদর্শনী টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিস (স্প্রিং)-এ অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত থেকে প্রায় ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য ও নিশ্চিত রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে।

২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আয়োজিত এ মেলায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-এর সহায়তায় অংশগ্রহণকারী ১৮টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে এই আদেশের আশ্বাস ও চুক্তি লাভ করে। পাশাপাশি ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রেতাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ ব্যবসায়িক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ইতিবাচক সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

ইপিবির বাইরে সরাসরি অংশগ্রহণকারী আরও ১১টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানও মেলায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সফল যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক আলোচনা করে। এসব আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন আদেশ ও যৌথ উদ্যোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।

মেলার প্রথম দিন, ২ ফেব্রুয়ারি, ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার মোহাম্মদ তালহা ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’ উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি প্যাভিলিয়নের সব স্টল পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও মেলার আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম। চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের মতো প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, টেক্সওয়ার্ল্ডের পাশাপাশি প্রিমিয়ার ভিশন প্যারিসসহ ফ্রান্সের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের জন্য প্যাভিলিয়ন ও স্টলের নকশায় উন্নয়ন আনা প্রয়োজন। স্বল্প ব্যয়ের প্রস্তুত স্টলের পরিবর্তে বড় পরিসরের জায়গা ভাড়া নিয়ে পেশাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে থিমভিত্তিক নকশা ও সাজসজ্জার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পোশাক ও বস্ত্র সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিসে এবারের আয়োজনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশটির মানসম্পন্ন উৎপাদন সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং পণ্যের বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সামনে সফলভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল মিনিস্টার মিজানুর রহমান বলেন, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাগুলোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও দৃশ্যমানতা বাড়াতে দূতাবাস বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং প্যারিসে এই সাফল্য বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: