মেট্রোরেল বন্ধ নয়, মনোরেল দিয়ে সংযোগ বাড়ানোর কথা বলেছেন তারেক রহমান
‘মেট্রোরেলের খরচ খুব বেশি, ক্ষমতায় আসলে জনগণের সুবিধার্থে মেট্রোরেল বন্ধ করে দিয়ে ডিজিটাল লোকাল বাস চালু করবো আমরা’ –এমন মন্তব্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান করেছেন দাবি করে ফটোকার্ড প্রচার করেছে ‘Daily DUCSU’ নামক একটি ফেসবুক পেজ। নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছে।
বাংলাফ্যাক্ট যাচাই করে দেখেছে, ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমান মেট্রোরেল বন্ধ করে দেবেন বলে কোনো মন্তব্য করেননি; বরং তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। ঢাকার যানজট নিরসনে বিদ্যমান মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের পাশাপাশি ‘মনোরেল’ (Monorail) চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন।
তারেক রহমান ২০ জানুয়ারি রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় বনানী সোসাইটি আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় ঢাকার যানজট পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনারা যারা ইউরোপে গিয়েছেন, আপনারা দেখেছেন- ইউকেতে গিয়েছেন বা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন- আপনারা দেখেছেন যে পাবলিক ট্রান্সপোর্টটাকে ডেভেলপ করার মাধ্যমেই কিন্তু সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে। ব্রিটেনে আমি দেখেছি যে, সেই দেশের এমপি বলেন, মন্ত্রী বলেন, তারা পাবলিক ট্রান্সপোর্টেই কিন্তু ঘোরাফেরা করছেন; সেটা বাসে হোক, সেটা ট্রেনে হোক, টিউবে হোক তারা ঘোরাফেরা করছেন। আমরা নিশ্চয়ই পারব, কেন পারব না? ওরা যদি পেরে থাকে, আমরাও পারব।
তবে বিষয়টা হচ্ছে এখানে যে, কীভাবে পাবলিক ট্রান্সপোর্টটাকে ডেভেলপ করা যায়। সেটি মনোরেল হতে পারে। মেট্রোরেল থেকে লেস কস্টলি হচ্ছে মনোরেল। এক্সপার্টদের বক্তব্য হিসেবে উনারা আমাকে যেটা প্রেজেন্ট করেছেন যে সেটা, মনোরেল বসানো ইজি; আবার আপনি ওটাকে কন্টেইনারের মতো অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়েও বসাতে পারবেন এবং ওটার খরচও কম। খরচ কম হলে স্বাভাবিকভাবেই ওটার ভাড়াও কম হবে, সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য সুবিধাও হবে। কাজেই মনোরেলকে আমরা এক্সপার্টদের বক্তব্য অনুযায়ী বনানীর ভেতর দিয়ে যে ১১ নম্বর রোড, এটার ভেতর দিয়ে আমরা মনোরেল নিয়ে যেতে পারব।
মনোরেল নিয়ে আমরা মেট্রোরেল যেখানে করা হয়েছেন এটাকে তো আমরা ভেঙে ফেলতে পারব না; কারণ, এখানে অলরেডি জনগণের অর্থ খরচ হয়ে গিয়েছে। কাজেই মনোরেলটাকে নিয়ে আমরা কানেক্ট করতে পারব, মেট্রোরেল যেখান থেকেও আবার চলে যেতে পারবে বিভিন্ন জায়গায় একটা মানুষ। সো আবার মোহাম্মদপুরের ভেতর দিয়ে আমরা মনোরেল নিয়ে এসে ওখানে যে কানেক্টিভিটি আছে মেট্রোরেলের, সেখানে কানেক্ট করতে পারব।
সো এভাবে করে আমরা ট্রাফিকটাকে সমাধান করব। কারণ, যতই আমরা শহরকে এক্সপ্যান্ড করি না কেন, ট্রাফিক ততই বাড়তে থাকবে, গাড়ি ততই বাড়তে থাকবে। কিন্তু আমরা যদি পাবলিক ট্রান্সপোর্টটাকে অন্তত এরকম একটা স্টেজে আনতে পারি যেখানে, এখানে যারা মঞ্চে বসে আছেন অথবা আমার সামনে যারা বসে আছেন, আমরা যদি কমফর্ট ফিল করি যে হ্যাঁ, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে আমরা চলাচল করতে পারব, সেক্ষেত্রে কিন্তু ট্রাফিক কনজেশন অনেক ক্ষেত্রে কমে আসবে। পৃথিবীর অন্য দেশেও আমরা এটা দেখছি। আমাদের সামনে যেহেতু ওরকম উদাহরণ আছে, কাজেই আমাদের দেশেও আমরা নিশ্চয়ই সেটা করতে পারব।’
অর্থাৎ, তারেক রহমান মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল ব্যবস্থা চালু করার কথা বলেছেন। মেট্রোরেল বন্ধ করে দেওয়া হবে- এমন কোনো মন্তব্য তিনি করেননি। মূলত, নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছে।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: