পরবর্তী সময়সীমা হবে ১৭ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে
কয়েক সপ্তাহ পেছাল আর্টেমিস ১ এর উৎক্ষেপন
শেষ মুহূর্তে রকেটে হাইড্রোজেন লিকের কারনে দ্বিতীয় বারের মতো উৎক্ষেপন স্থগিত করা হয় আর্টেমিস-১ এর। চার ঘন্টার চেষ্টায়ও বিজ্ঞানীরা সেটা বন্ধ করতে না পারার ফলে রকেট উৎক্ষেপণ স্থগিত করতে বাধ্য হন তাঁরা।
রয়টার্স বলছে, আর্টেমিস-১ চন্দ্রাভিযানের জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময়সীমা ছিল। কিন্তু এখন তা আর সম্ভব হচ্ছে না। পরবর্তী উৎক্ষেপণের সময়সীমা হতে পারে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু তাতেও ব্যর্থ হলে পরবর্তী সময়সীমা হবে ১৭ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে।
টিভি৯বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের আগে আর্টেমিস ১-এর তৃতীয় বার উৎক্ষেপণের কোনও সম্ভাবনা আপাতত নেই।
দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় লঞ্চ উইন্ডোটি খোলার কয়েক ঘণ্টা আগেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল লিকের কারণে। জানা যায়, রকেটে আট ইঞ্চির সংযোগ দ্রুত বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে সরবরাহের দিকে একটি ফুটো হয়। পরে প্রকৌশলীরা সমস্যাটি সমাধান করা চেষ্টা করলেও ওই সময়ের মধ্যে লিকটি মেরামত করা সম্ভব হয়নি।
৩২২ ফুট (৯৮-মিটার) রকেটে প্রায় এক মিলিয়ন গ্যালন জ্বালানি লোড করে লঞ্চের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। অতিরিক্ত চাপের একটি অ্যালার্মও বাজানো হয়েছিল এবং ট্যাঙ্কিং অপারেশনটি হুট করেই থামাতে হয়েছিল। যদিও এর ফলে রকেটটি কোনও বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি এবং সেটিকে উৎক্ষেপণের প্রচেষ্টাও শুরু করে দেওয়া হয়েছিল। তারপরেই ধরা পড়ে আসল গলদটি। কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই প্রকৌশলীরা রকেটের নিচের ইঞ্জিন বিভাগ থেকে হাইড্রোজেন জ্বালানি লিকিং সনাক্ত করেন। সমস্যার সমাধান প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্যাঙ্কিং অপারেশন বন্ধ করতে বাধ্য হন ইঞ্জিনিয়াররা। কাউন্টডাউন ঘড়ি সক্রিয় থাকার কারণে সরবরাহ লাইনে একটি সিলের চারপাশে ফাঁকটি দেখা গিয়েছিল।
লঞ্চ প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগে নাসার বলেছিলো, ফ্লাইট সাইড এবং গ্রাউন্ড সাইড প্লেট যেখানে মিলিত হচ্ছে, ঠিক সেখানেই প্রকৌশলীরা দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ফলে একটি গহ্বরে একটি তরল হাইড্রোজেন লিককে মেরামত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সিলটি রিসেটের চেষ্টা করে যাচ্ছেন ইঞ্জিনিয়াররা।
তবে গত সোমবার যখন প্রথম বার আর্টেমিস ১-কে চাঁদে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়, সে সময় কিন্তু এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। সে দিন একটি সেন্সর নির্দেশ করে যে, রকেটের চারটি ইঞ্জিনের মধ্যে একটি খুব গরম ছিল। কিন্তু প্রকৌশলীরা পরে যাচাই করে দেখেন যে, সেটি আসলে যথেষ্ট ঠান্ডা ছিল। লঞ্চ টিম সেই সময়ে ত্রুটিপূর্ণ সেন্সরটিকে উপেক্ষা করার পরিকল্পনা করেছিল এবং প্রতিটি প্রধান ইঞ্জিন সঠিক ভাবে ঠান্ডা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য অন্যান্য যন্ত্রের উপর নির্ভর করে।
বিভি/এসআই



মন্তব্য করুন: