• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

যেভাবে নামকরা ব্যাংক, প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে জাতীয় সাইবার ড্রিলে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় টিম

শুভ ইসলাম

প্রকাশিত: ২১:২২, ১৩ ডিসেম্বর ২০২২

আপডেট: ২১:৫৬, ১৩ ডিসেম্বর ২০২২

ফন্ট সাইজ
যেভাবে নামকরা ব্যাংক, প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে জাতীয় সাইবার ড্রিলে প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় টিম

বাংলাদেশ কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (সার্ট) এর আয়োজনে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী "জাতীয় সাইবার ড্রিল ২০২২"-এ ৭৭০০ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়েছে টিম ডিসক্লসিফাই। উক্ত সাইবার ড্রিলে সমসংখ্যক ৭৬০০ নম্বর পেয়ে উত্তর প্রদানের সময়ের উপর ভিত্তি করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছে যথাক্রমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লাইন্ডার্স এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এফ সোসাইটি। 

এই সাইবার ড্রিলে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ,বেসরকারি সেবাদান প্রতিষ্ঠান হতে ৫৩টি দলে প্রায় ২৪৭ জন অংশগ্রহণকারী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে যাদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে। 

৫৩টি প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে প্রথম হওয়া দল ডিসক্লসিফাই। এই দলের সদস্যরা হলো, তাসদির আহমেদ, মো. রাসেল ভূঁইয়া, রায়হান আহমেদ, আমির হামজা এবং মো. অটল খান। তাসদির আহমেদ বাংলাভিশনকে বলেন, আমাদের এই সাফল্যের মূল রহস্যটাই হলো সিটিএফ কমিউনিটি। কারন, আমরা এই কমিউনিটির মাধ্যমে সাইবার সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান প্র্যাকটিক্যালি জানার সুযোগ পেয়েছি এবং আমরা প্যাশনের সাথে সেই কাজ গুলো নিয়মিতভাবে করতাম। আমরা একটা দৃঢ় লক্ষ্য নিয়ে সবসময় কাজ করতাম, আমাদের মাঝে হাল ছাড়বোনা একটা স্বভাব সবসমই ছিল। 

তাসদির বলেন, ইন্সিডেন্ট রেসপন্স এবং থ্রেট হান্টিং ক্যাটাগরির প্রশ্ন গুলো সময় সাপেক্ষ এবং চ্যালেজ্ঞিং ছিল। তাই এই ক্যাটাগরিতে আমরা তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি। এছাড়া ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এরও কিছু প্রশ্ন বাদ ছিলো। 

তাসদির বলেন, আমরা দেশে একটি সাইবার সিকিউরিটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে কাজ করছি। আমরা সে লক্ষ্যেই আমাদের সিটিএফ কমিউনিটিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছি। আশা করছি, এই কমিউনিটি একদিন আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে বিস্তৃত হবে। অটোমোশান কিছু সফটওয়্যার নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

এই ড্রিলে ব্যাংক এবং নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম হয়েছে রুপালী ব্যাংক লি. এর টিম আরবিএল সাইবার ওয়ারিওরস, তাদের প্রাপ্ত নাম্বার ৫৫০০। এ বিষয়ে রুপালী ব্যাংকের সাইবার সেলের টিম লিড, জি এম ফারুক বাংলাভিশনকে বলেন, এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। দু’দিনের এই ড্রিলে প্রথম দিনের প্রশ্নাদি আমরা বিভিন্ন টুলের সাহায্যে সমাধান করি। দ্বিতীয় দিন সাইবার বিষয়াদি নিয়ে প্রশ্নগুলোও একই ক্যাটাগরিতে সমাধান করেছি। তিনি বলেন, ইন্সিডেন্ট রেসপন্স ক্যাটাগরিতে আমরা পর্যাপ্ত ভাল করতে পারিনি কারন এ ক্যাটাগরিতে আমাদের টুলের ঘাটতি ছিল। 

তিনি বলেন, বিসিপি (বিসনেজ কন্টিনিউয়িটি প্ল্যান), জিআরসি (গভ রিস্ক অ্যান্ড কম্প্লায়েন্স) এবং ফরেনসিক ক্যাটাগরীতে আমরা ভাল করেছি।  এই ক্যাটাগরীতে কোন টুলের সহযোগিতা ছাড়াই সমস্যার সমাধান করেছি। এই ক্ষেত্রে সার্ট আয়োজিত ফিন্যান্সিয়াল ড্রিল যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে বলে জানান তিনি।  

ব্যাংক, নন-ব্যাংকিং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি টিম প্রথম স্থান অধিকার করেছে, বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন, এমন প্রশ্নের জবাবে জি এম ফারুক বলেন, আসলে তাদের সাফল্যের মূল কারণটাই হলো ফুল টাইম ইউটিলাইজেশন। তারা পড়াশোনার পাশাপাশি এসব ইস্যুতে গবেষণা এবং প্রায়োগিক দিক নিয়ে কাজ করার সুযোগ পায়, যেখানে সময় আমাদের জন্য একটা বড় ফ্যাক্টর। তিনি বলেন, এক গবেষণায় দেখা গেছে, পঁচিশ বা তার আশপাশের বয়সের যুবকদের কাজ করার একটা কনস্ট্যান্টলি কাজ করার একটা প্রবণতা থাকে, তারা আসলে প্যাশন নিয়ে কাজ করার সুযোগ পায়। 

তিনি বলেন, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম যখন অংশগ্রহণ করে তখন তাদের সাথে অনেকে এক সাথে কাজ করার সুযোগ পায়, যেখানে ব্যাংকের ক্ষেত্রে চিত্রটা আলাদা। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে তিনি গর্ববোধ করেন বলেও জানান, পাশাপাশি এমন আয়োজনের জন্য সার্টকেও ধন্যবাদ জানান এই কর্মকর্তা। 

এই আয়োজনের বিষয়ে বিজিডি ই-গভ সার্টের প্রকল্প পরিচালক তারেক এম বরকতউল্লাহ বলেন, সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টি মূলত দলগত কাজ। তাই জাতীয় সাইবার ড্রিলের মাধ্যমে দলগত বিষয়টিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিজিডি ই-গভ সার্ট হতে প্রতিবছর ৩টি (আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সকলের অংশগ্রহণে) সাইবার ড্রিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব ড্রিল আয়োজনের মাধ্যমে সাইবার ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীরা সম্যক ধারণা পাচ্ছে এবং সাইবার নিরাপত্তায় দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কোন কোন বিশেষজ্ঞ বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই দৌড়ে এগিয়ে থাকার বিশেষ একটা কারণ হলো, শিক্ষার্থীদের টিম ওয়াইজ বা একটি টিমে অনেকের সহযোগিতা নিয়ে কাজ প্রচুর সময় দিয়ে কাজ করার সুযোগ পায়, যেখানে অনেক ব্যাংক তাদের কাজের পাশাপাশি এই ড্রিলে অংশ গ্রহণ করে থাকে। 

 এ সাইবার ড্রিলের সার্বিক সহায়তা ও তত্ত্বাবধানে ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল।

তবে, বিগত দুই বছরের পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ২০২০-২১ সালে জাতীয় সাইবার ড্রিলে বিভিন্ন ব্যাংকের পারফর্মম্যান্স লক্ষ্য করার মতো। সবশেষ ২০২১ সালে মার্কেন্টাইল ব্যাংক  এর (MBL_XFORCE) ১ম স্থান এবং সামগ্রিক ভাবে ১৩ তম স্থান অধিকার করে। সেবছর ফাইন্যানসিয়াল সাইবার ড্রিলে মার্কেন্টাইল ব্যাংক সামগ্রিকভাবে চতুর্থ এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক গুলোর মধ্য ১ম স্থান অর্জন করে। 

 

বিভি/এসআই

মন্তব্য করুন: