• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

মাশরুম নিজেদের মধ্যে যে ভাষায় কথা বলে

প্রকাশিত: ১৮:০০, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

আপডেট: ১৮:০৪, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

ফন্ট সাইজ
মাশরুম নিজেদের মধ্যে যে ভাষায় কথা বলে

গাছের জীবন আছে, তথ্যটি নতুন না হলেও তারা একে অপরের সাথে কথা বলে, কি ভাবছেন? এ আবার কেমন কথা। হ্যাঁ, বিজ্ঞানীরা তাই বলছেন। তারা জানাচ্ছেন, মাশরুম (Mushrooazমানুষের (Human) মত একে অপরের সঙ্গে কথা বলে। তারা তাদের শিকড়ের সাহায্যে এই কাজটি করে, যাকে বলা হয় মাইসেলিয়াম।

মাইসেলিয়াম ছত্রাকের সেই দৈহিক অংশ, যা অগণিত শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট সূত্রাকার হাইফি দ্বারা গঠিত। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মাশরুমের নিজস্ব মস্তিষ্ক আছে। এমনকি অনুভূতির চেতনাও রয়েছে।

ওয়েস্ট ইংল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of West England) এই গবেষণার পর ছত্রাক প্রজাতির এই উদ্ভিদের প্রতি বিজ্ঞানীদের আগ্রহ বাড়তে থাকে। বিভিন্ন জাতের মাশরুম নিয়ে নিরন্তর গবেষণা চলছিল। এরই মধ্যে সর্বশেষ গবেষণা হল, তাদের মস্তিষ্ক মানুষের মতোই সবসময় সক্রিয় থাকে।

কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Queensland) গবেষণাটি সম্প্রতি জার্নাল অফ নিউরোকেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত হয়েছে। ভোজ্য মাশরুম, যাকে হেলিসিয়াম অ্যারিয়াসিয়াস বলা হয়, এতে এক ধরণের প্রোটিন রয়েছে, যা স্নায়ুর বৃদ্ধিতে কাজ করে। এই প্রোটিনগুলিকে নিউরোট্রফিন বলা হয়। এমনকি এই প্রোটিন মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে।

তাহলে এখন প্রশ্ন আসে এই প্রোটিন মানুষের শরীরে কীভাবে কাজ করে?

এই প্রোটিনটি হল নিউরোট্রফিন। এটি মূলেও পাওয়া যায় এবং একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে সাহায্য় করে। মাশরুমের মূলেই এটি বাড়তে থাকে। অবাক ব্য়পার হল এই প্রক্রিয়াটি মানুষের মতোই। মানুষের মধ্যেও নিউরোট্রফিন থাকে। যা মস্তিষ্কের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ব্রেইন ডিরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (BDNF-Brain Derived Neurotrophic Factor) নামেও পরিচিত। 

শরীরে এই প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে মস্তিষ্কের বিকাশ ঠিকমতো হয় না। এই প্রোটিনের ঘাটতি থাকতে সে আলজ়েইমার এবং রেট রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিজ্ঞানীরা মাশরুমের অনেকগুলি প্রজাতি গবেষণা করে দেখেছেন, তাদের মধ্যে উপস্থিত প্রোটিন নিউরনের বিকাশ ঘটাতে পারে। লায়ন মাশরুম ( Lion Mushrooms), যা বিশেষভাবে এশিয়ার দেশগুলিতে খাওয়া হয়। এমন লোকদের দেওয়া হয় যাদের মস্তিষ্ক সম্পর্কিত কোনও সমস্যা রয়েছে।

তবে নিশ্চয়ই ভাবছেন মাশরুম কি ধরনের ভাষায় কথা বলে?

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মাশরুমরা প্রায় ৫০ শব্দ বলতে পারে। তাদের প্রতিটি শব্দের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে পাঁচ অক্ষর। প্রতিদিনের কথোপকথনে তারা প্রায় ২০ শব্দ ব্যবহার করে। এই শব্দগুলি বৈদ্যুতিক আবেগের (Electrical Impulses) মাধ্যমে একটি থেকে অন্যটিতে পৌঁছায়। এর সাহায্যে তারা প্রকৃতিতে ঘটা বিপদের যেকোনও বিষয় সম্পর্কে অন্যদের কাছেও পৌঁছে দেয়।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিষয়ে এখনই কোনও বড় কিছু সিদ্ধান্তে আসা যাবে না। তবে মাশরুমে এমন অনেক কিছু রয়েছে, যা মানুষের জন্য জানা গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। 
 

বিভি/ এসআই

মন্তব্য করুন: