• NEWS PORTAL

  • শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫

Drama: Jamai Bou Chor
Drama: Jamai Bou Chor

বিশ্বের প্রথম এইডস রোগের টিকা তৈরি করছে রাশিয়া

প্রকাশিত: ১৪:৪২, ২৮ আগস্ট ২০২৫

ফন্ট সাইজ
বিশ্বের প্রথম এইডস রোগের টিকা তৈরি করছে রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

ভাইরাসজনিত প্রাণঘাতী রোগ অ্যাকোয়ার্ড ইমিউনো ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রোম বা এইডসের টিকা তৈরি করছে রাশিয়া। যদি এই প্রকল্প সফল হয়, তাহলে এটি হবে বিশ্বে এইডসের প্রথম টিকা।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব বার্তাসংস্থা রিয়া নভোস্তি’র বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ সংবাদামাধ্যম রাশিয়া টুডে। দেশটির চিকিৎসা ও অনুজীববিজ্ঞান গবেষণা বিষয়ক সরকারি প্রতিষ্ঠান গামালিয়া ন্যাশনাল সেন্টার ইতোমধ্যে টিকা্ তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২ বছর বা তারও কম সময়ের মধ্যেই বাজারে আসার জোর সম্ভাবনা আছে এই টিকার।

বুধবার (২৭ আগস্ট) গামালিয়া ন্যাশনাল সেন্টারের মহামারিবিদ্যা (এপিডেমিওলজি) বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির গুশচিন বুধবার এক সাক্ষাৎকারে রিয়া নভোস্তিকে ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক এমআরএনএ প্রযুক্তি অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হবে এই টিকা।

এমআরএনএ-এর পূর্ণরূপ ম্যাসেঞ্জার রাইবো-নিউক্লিয়িক এসিড। প্রচলিত পদ্ধতিতে টিকা প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে মৃত বা বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত জীবাণু ব্যবহার করা হয়, তবে এমআরএনএ প্রযুক্তিতে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না, বরং ব্যবহার করা হয় এক ধরণের প্রোটিন—যা দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশের পর কোনো নির্দিষ্ট জীবাণুর বিরুদ্ধে মানবদেহের সহজাত প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বহুগুণ শক্তিশালী করে।

রিয়া নভোস্তিকে গুশচিন বলেন, ‘এ টিকার মূল উপাদান হবে এমন একপ্রকার প্রতিষেধক তরল বা অ্যান্টিজেন, যা মানবদেহে বিস্তৃতভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করবে। বর্তমানে আমরা এই প্রতিষেধক তরল তৈরির কাজ শুরু করেছি। আশা করছি দু’বছর বা তারও কম সময়ের মধ্যে এইডসের টিকা আমরা বাজারে আনতে পারবো।’

উল্লেখ্য, এইডস এইডস আসলে একই সঙ্গে রোগ এবং রোগের উপসর্গের সমষ্টি। হিউম্যান ইমিউনো ভাইরাস বা এইচআইভি এইডসের জন্য দায়ী। এই ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করলে মানুষের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে, একজন এইডস রোগী খুব সহজেই যে কোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটাতে পারে। এইচআইভি সংক্রমণের পরবর্তী অবস্থাকেই এইডস বলা হয়।

গত শতকের ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এইডসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। ওই বছরই দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) এই রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস এইচআইভিও শনাক্ত করে।

অনিরাপদ যৌনতা, সিরিঞ্জের সূঁচের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে এইচআইভি ভাইরাস। এছাড়া, প্রসূতী মায়ের মাধ্যমেও এইডসে আক্রান্ত হয় শিশুরা। কোনো গর্ভবতী নারীর দেহে এইডসের জীবাণু থাকলে তা অনাগত সন্তানকেও সংক্রমিত করে।

সাহারা ও নিম্ন আফ্রিকার অঞ্চলগুলোতে এইডসের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ মারা যান এইডসে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বিশ্বে এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন ১০ লাখ মানুষ।

২০১০ সালের পর থেকে অবশ্য বিশ্বজুড়ে এইডসে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ, যা ২০১০ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম।

এর আগেও বিভিন্ন দেশ এইডসের টিকা তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছিলো, কিন্তু সেসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

রাশিয়ার গামালিয়া ন্যাশনাল সেন্টার বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় জীবাণু গবেষণা প্রতিষ্ঠান। করোনার প্রথম টিকা আবিষ্কার করেছিলো গামালিয়া সেন্টার। স্পুটনিক ৫ নামের সেই টিকার করোনা প্রতিরোধী সক্ষমতা ছিলো ৯৭ শতাংশেরও বেশি। বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে করোনা মহামারি মোকাবিলায় এ টিকা ব্যবহার করা হয়েছে।- সূত্র : আরটি

বিভি/এআই

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত
Drama Branding Details R2
Drama Branding Details R2