• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

ট্রাম্পের আগ্রাসনের শিকার হতে পারে আরও যে ৫ দেশ 

প্রকাশিত: ২২:১১, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ট্রাম্পের আগ্রাসনের শিকার হতে পারে আরও যে ৫ দেশ 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পরই পররাষ্ট্রনীতিতে আক্রমণাত্মক ও আধিপত্যবাদী আচরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক ঝটিকা এবং নাটকীয় অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখী করার ঘটনার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প দেখিয়ে দিয়েছেন-হুমকি শুধু কথায় সীমাবদ্ধ নয়।

এই অভিযানের ব্যাখ্যায় ট্রাম্প ১৮২৩ সালের মনরো ডকট্রিনের কথা তুলে ধরেন এবং পশ্চিম গোলার্ধে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের পুরোনো নীতিকে নিজের নাম অনুসারে নতুন করে ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে অভিহিত করেন। ভেনেজুয়েলার পর এখন প্রশ্ন উঠছে-এরপর কোন দেশ বা অঞ্চল ট্রাম্প প্রশাসনের নজরে পড়তে পারে? খবর এনডিটিভির।                  

গ্রিনল্যান্ড: আর্কটিক অঞ্চলের বিশাল এই দ্বীপটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটির (পিটুফিক স্পেস বেস) অবস্থানস্থল। তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যেই বলেছেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ পুরো গ্রিনল্যান্ডই তার প্রয়োজন। বিরল খনিজে সমৃদ্ধ এবং ভবিষ্যৎ নৌপথের জন্য কৌশলগত এই দ্বীপ নিয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করলেও উত্তেজনা কমেনি।

কলম্বিয়া: ভেনেজুয়েলা অভিযানের পরপরই কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্কবার্তা দেন ট্রাম্প। তেল, খনিজ সম্পদ এবং মাদকপাচারের জন্য পরিচিত এই দেশটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ছে। ট্রাম্প কলম্বিয়াকে ‘কোকেন উৎপাদনের কেন্দ্র’ আখ্যা দিয়ে সম্ভাব্য অভিযানের ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

ইরান: সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরান বরাবরই ট্রাম্প প্রশাসনের টার্গেট। বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চললে ‘কঠোর জবাব’-এর হুমকি দিয়েছেন তিনি। ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত ও গোপন বৈঠকগুলো ইরান ইস্যুকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

মেক্সিকো: মাদক ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে মেক্সিকোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প। সীমান্ত দেয়াল থেকে শুরু করে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা-সবই তার বক্তব্যে ঘুরে ফিরে এসেছে, যদিও মেক্সিকো সরকার তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

কিউবা: ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র কিউবাকে নিয়ে ট্রাম্পের সুর কিছুটা ভিন্ন। তার ভাষায়, দেশটি ‘পতনের মুখে’, তাই সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের দরকার নেই। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে—হাভানার জন্য উদ্বেগের কারণ এখনও ফুরায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার ঘটনাই দেখিয়ে দিয়েছে-ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিতে হঠাৎ সিদ্ধান্ত ও শক্তি প্রয়োগ এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং নতুন বাস্তবতা।

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত
Drama Branding Details R2
Drama Branding Details R2