গাজায় শান্তি পরিষদ গঠনের ঘোষণা, চেয়ারম্যান ট্রাম্প
গাজায় শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানান।
তিনি এই পরিষদকে ‘সর্বকালের সবচেয়ে মহান ও মর্যাদাপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, খুব শিগগির এর সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এই পরিষদ গঠন মূলত যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা টিআরটি গ্লোবাল এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন শাসনকাজ পরিচালনার জন্য ১৫ সদস্যের একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা এই ‘শান্তি পরিষদের’ সরাসরি তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। ধারণা করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই শান্তি পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন এবং মাঠপর্যায়ে এটি বুলগেরিয়ার প্রখ্যাত কূটনীতিক নিকোলে ম্লাদেনভের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।
এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো গাজায় ‘যুদ্ধবিরতি থেকে নিরস্ত্রীকরণ’ এবং একটি শক্তিশালী টেকনোক্র্যাট শাসনের মাধ্যমে এলাকাটি পুনর্গঠন করা। ইতিমধ্যে এই কমিটির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলী শাথকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি বর্তমানে মিসরে অবস্থান করে গাজায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনায় গাজার পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে, যা মূলত হামাসকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, শান্তি পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে গাজা থেকে সকল অননুমোদিত অস্ত্রধারী কর্মীদের নিরস্ত্রীকরণ করা হবে এবং সেখানে একটি ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ মোতায়েন করা হবে।
হামাসের শীর্ষ নেতা বাসেম নাইম এই কমিটি গঠনকে ‘সঠিক দিশায় একটি পদক্ষেপ’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন যে, এখন এই কমিটিকে ক্ষমতায়ন করা এবং মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এগিয়ে আসা উচিত।
তবে গাজা থেকে ইসরাইলি সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার মতো জটিল রাজনৈতিক ইস্যুগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। যদিও গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ইসরায়েল তা বারবার লঙ্ঘন করে শত শত ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ট্রাম্পের এই ‘শান্তি পরিষদ’ কতটুকু কার্যকর হয় এবং ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে পুরোপুরি সরে যায় কি না, সেটিই এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের মূল দেখার বিষয়।
সূত্র: টিআরটি গ্লোবাল
বিভি/এসজি



মন্তব্য করুন: