ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ খামেনির
ছবি: আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন এবং দাবি করেন। তিনি বলেন, এবারের বিক্ষোভ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভয়াবহ, কারণ এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে জড়িত ছিলেন।
খামেনির ভাষায়, ট্রাম্প একজন ‘অপরাধী’। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ইরানকে দুর্বল করে আবারও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কব্জা করা। এই উদ্দেশ্যেই বিক্ষোভে উসকানি ও হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, এই প্রথমবারের মতো খামেনি বিক্ষোভে নিহতদের সংখ্যা নিয়ে সরাসরি ‘হাজার হাজার’ শব্দটি ব্যবহার করেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো ইরানে পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, যার ফলে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ গেছে।
খামেনি আরও বলেন, ট্রাম্প কেবল উসকানি দিয়েই থেমে থাকেননি—তিনি নাকি সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। তার ভাষায়, “এই অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিলেন ট্রাম্প।” তবে তিনি সতর্ক করে জানান, ইরান বাইরের কোনো দেশের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না, কিন্তু দেশের ভেতর ও বাইরে থাকা ‘অপরাধীদের’ শাস্তি অবশ্যই দেওয়া হবে।
ভাষণে খামেনি অভিযোগ করেন, উগ্র বিক্ষোভকারীরা ২৫০টিরও বেশি মসজিদ এবং বেশ কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রে আগুন দিয়েছে। এতে সামাজিক ও ধর্মীয় স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএর তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯০ জন নিহতের তথ্য যাচাই করা হয়েছে, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৮৫ জনই সাধারণ বিক্ষোভকারী।
এদিকে ইরান সরকার বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত তিন হাজার মানুষকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৮ জানুয়ারি থেকে টানা আট দিনের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি করা হয়। ধাপে ধাপে সংযোগ ফিরলেও আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটগুলো এখনও পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, মার্কিন চাপের কারণেই ৮০০ বিক্ষোভকারীর নির্ধারিত ফাঁসি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ইরান সরকার। ট্রাম্প একে নিজের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও তেহরান এই দাবিকে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিক্ষোভ, মৃত্যু, গ্রেফতার আর আন্তর্জাতিক দোষারোপে—ইরান এখন এক গভীর রাজনৈতিক ঝড়ের মুখে।
বিভি/এমআর



মন্তব্য করুন: