• NEWS PORTAL

  • বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

২৭ দেশের বিশাল বাজারে ভারতের রাজকীয় প্রবেশ (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১৫:০৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকিকে পাশ কাটিয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে দীর্ঘপ্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাল নয়াদিল্লি। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দিয়ে মোদি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন—বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় ভারত এখন আর কেবল হোয়াইট হাউসের মুখাপেক্ষী নয়।

প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ আলোচনার পর এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইইউ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করেন। 

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন একে "মাদার অফ অল ডিলস" বা সব চুক্তির সেরা চুক্তি বলে অভিহিত করেছেন। এর ফলে ২৭ দেশের জোট ইইউ-এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের জন্য ভারতের বিশাল ও তুলনামূলকভাবে সংরক্ষিত বাজার আরও বেশি উন্মুক্ত হবে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

এই চুক্তির ফলে উভয় দেশ একে অপরের প্রায় ৯৭% পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক তুলে নেবে বা ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনবে। বিশেষ করে ভারতের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য , রত্ন ও অলঙ্কার এবং সামুদ্রিক খাদ্যের মতো শ্রমনিবিড় খাতগুলো ইউরোপের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে। এতে ভারতের রপ্তানি দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

অন্যদিকে ভারত ইউরোপীয় গাড়ি, যন্ত্রপাতি, উন্নত রাসায়নিক দ্রব্য এবং ওয়াইনের ওপর থেকে উচ্চ শুল্ক ধাপে ধাপে কমিয়ে আনবে। তবে ভারতের তার স্পর্শকাতর কৃষি ও দুগ্ধজাত খাতকে এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে ইউরোপীয় পণ্যের আগমনে ভারতীয় ক্ষুদ্র কৃষকদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও কম থাকবে।

এই চুক্তির একটি অনন্য দিক হলো 'মোবিলিটি প্যাক্ট'। ভারতীয় আইটি বিশেষজ্ঞ, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষার্থী এবং পেশাদারদের জন্য ইউরোপের ২৭টি দেশে যাতায়াত ও কাজের ভিসা পাওয়া আগের চেয়ে অনেক সহজ হবে। ইউরোপে একটি 'লিগ্যাল গেটওয়ে অফিস' খোলা হবে, যা ভারতীয় দক্ষ কর্মীদের ইউরোপের বাজারে সুযোগ খুঁজে পেতে সরাসরি সাহায্য করবে।

বাণিজ্যের বাইরেও দুই পক্ষ একটি 'সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ' সই করেছে। এর ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের কোম্পানিগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৫০ বিলিয়ন ইউরোর প্রতিরক্ষা তহবিল বা সেফ প্রগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ভারত ও ইইউর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। উভয় পক্ষ আশা করছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাণিজ্য প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।

তবে এই চুক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্ত রাখার বদলে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশ্লেষক। ইউরোপ এবং ভারতের এই 'কৌশলগত ঐক্য' ট্রাম্পের চোখে ‘আমেরিকাকে কোণঠাসা করার প্রচেষ্টা’ হিসেবে গণ্য হতে পারে, যার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তিনি ভারত ও ইইউ-এর পণ্যের ওপর আরও কঠোর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিতে পারেন।

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন: