কেরালায় স্পা সেন্টারে ঢুকে চাঁদাবাজির পর তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
প্রতীকী ছবি
ভারতের কেরালা রাজ্যের থিরুভাল্লায় একটি আয়ুর্বেদিক স্পা সেন্টারে হামলা, চাঁদাবাজি ও একজন নারী কর্মীর ওপর দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে পুলিশ। ছয়জনের এক চক্রের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তারের পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। খবর দ্য হিন্দু।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক স্পা সেন্টারে প্রবেশ করে চাঁদা দাবি করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই নারী কর্মীর ওপর নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে তাকে অভিযোগকৃতভাবে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার তদন্ত নতুন মোড় নেয় যখন স্পা মালিক বলেন, এই ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীর হাত রয়েছে।
পুলিশ ভুক্তভোগী নারী ও স্পা মালিকের বক্তব্য রেকর্ড করেছে এবং স্পা সেন্টারে অবৈধ কার্যকলাপ চলছিল কি না তা তদন্ত করছে।
পাঠানামথিট্টা জেলার পুলিশ সুপার আর আনন্দ জানান, ভুক্তভোগীকে জেলা লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির মাধ্যমে আইনি সহায়তা ও মানসিক কাউন্সেলিং প্রদান করা হচ্ছে। মামলার প্রধান আসামি সুবিন আলেকজান্ডারের বিরুদ্ধে কেরালা অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্টের আওতায় প্রতিরোধমূলক আটকাদেশের ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।
স্পা থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ে পুলিশের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, এ মামলায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে অতীতে এ ধরনের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুরুতে ভুক্তভোগী নারী এবং স্পা মালিক অভিযোগ জানাতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন, তবে এক স্পেশাল ব্রাঞ্চ কর্মকর্তার হস্তক্ষেপের ফলে পুলিশ বিষয়টি নজরে নেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর সহকর্মীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ভুক্তভোগীর জবানবন্দি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা স্পা মালিকের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে। দাবি পূরণ না হলে ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়া, পলাতক চার আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: