• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ডাইনি অপবাদ দিয়ে নারী ও তার ১০ মাসের সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা!

প্রকাশিত: ২১:৪৭, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ডাইনি অপবাদ দিয়ে নারী ও তার ১০ মাসের সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যা!

কুসংস্কারে আচ্ছন্ন এখনও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল। এবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে ডাইনি অপবাদ দিয়ে এক নারী ও তার ১০ মাস বয়সী ছেলেকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই অভিযোগে এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ওই নারীর স্বামীও হামলার শিকার হন। এখন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের খোঁজে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভারতে ডাইনি অপবাদ দিয়ে আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী।

গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জ্যোতি সিংকু নামের ওই নারী ও তার শিশুপুত্রকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর কয়েক মাস আগে প্রতিবেশী বিহার রাজ্যে একই ধরনের অভিযোগে একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

ঝাড়খণ্ডের কুদসাই নামের একটি প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। প্রায় ৫০টি কাঁচা ঘর নিয়ে গঠিত এ গ্রামটি রাজ্যের রাজধানী রাঁচি থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রামে গবাদিপশুর আকস্মিক মৃত্যু এবং পুস্তুন বিরুয়া নামে এক ব্যক্তির অসুস্থতা ও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব ঘটনার জের ধরেই সহিংসতার সূত্রপাত।

পুস্টুনের স্ত্রী জানো বিরুয়া জানান, তার স্বামীর অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে তিনি একজন হাতুড়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। গ্রামে কোনো প্রশিক্ষিত ডাক্তার না থাকায় এটাই ছিল একমাত্র ভরসা। ওই হাতুড়ে চিকিৎসক তাদের বলেন, পুস্টুনের শরীরে দৃশ্যমান কোনো রোগ নেই।

তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি কেন—এ প্রশ্নের জবাবে জানো বলেন, ‘আমরা খুব গরিব। এত দূরে হাসপাতালে নেওয়ার সামর্থ্য আমাদের ছিল না।’ এ সময় গ্রামে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে, জ্যোতি সিংকু নামে এক নারী জাদুটোনা বা ডাইনিবিদ্যা চর্চা করছেন এবং পুস্টুনের অসুস্থতার জন্য তিনিই দায়ী। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুস্টুন বিরুয়ার মৃত্যু হয়।

জ্যোতির স্বামী কোলহান সিংকু জানান, সেদিন রাতে প্রায় ১২ জনের একটি দল তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে পাঁচজন নারীও ছিলেন। তারা তার স্ত্রী ও সন্তানের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে কোলহান সেই ভয়াল ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘আমি হাতজোড় করে অনুরোধ করেছিলাম। বলেছিলাম, বিষয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত বা সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা হোক। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি।’

কোলহান সিংকু ও পরিবারের আরেক সদস্যের বক্তব্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ হত্যা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

বিভি/টিটি

মন্তব্য করুন: