খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছেন ট্রাম্প? (ভিডিও)
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এখন আর শুধু সংকেত নয়, বরং পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ। মধ্যপ্রাচ্যে ইতিহাসের ব্যয়বহুল পদক্ষেপ নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতোমধ্যে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এমন প্রস্তুতি নিয়েছে যা ২০০৩ সালে ইরাকে হামলার আগের প্রস্তুতিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
আয়াতুল্লা আলী খামেনির দেশকে যেকোনো মূল্যে হাতের মুঠোয় আনতে এবং দেশটির শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা রেজিম চেঞ্জ চান ট্রাম্প। সম্প্রতি ইরান সংকট নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান নৌ ও সামরিক উপস্থিতির মাঝে খামেনি ও তার উত্তরসূরিকে হত্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। ২০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের দাবি না মানে, তাহলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার ছেলে ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত মোজতবা খামেনি এবং দেশটির ক্ষমতাসীন অন্যান্য নেতাদের হত্যার পরিকল্পনাও রয়েছে ট্রাম্পের।
সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য ও সংবাদ প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ৮৬ বছর বয়সী আলী খামেনি তেহরানেই আছেন। সবশেষ ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে তাকে জনসমক্ষে দেখা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কারণে তার চলাফেরা এবং অবস্থানের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
খামেনির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে আইআরজিসি-র একটি অতি-অভিজাত ইউনিট 'সেপাহ-ই-ওয়ালি-ই-আমর'। তারা সাধারণ মোবাইল বা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। তাদের নিজস্ব এনক্রিপ্টেড এবং অফলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে, যা ট্র্যাক করা কঠিন। ফলে তাদের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় ভেদ করা প্রায় অসম্ভব।
এরপরও খামেনির ওপর কোনো আঘাত আসলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা শুরু হবে। খামেনিকে হত্যা করলে তা ইরানিদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ তৈরি করতে পারে। ফলে এমন অবস্থায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তার সহকারীরা। ২১ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন, এই ভোটযুদ্ধে ক্ষমতাসীন দল রিপাবলিকানদের পরাজয়ের আশঙ্কা প্রতিনিয়ত ঘনীভূত হচ্ছে। আর আসন্ন নির্বাচনে সত্যিই যদি ট্রাম্পের দল হেরে যায়, তাহলে মুকুটহীন রাজায় পরিণত হবেন তিনি। এমনকি তাকে অভিশংসনও করা হতে পারে বলে ট্রাম্প নিজেই বারবার প্রকাশ্যে বলছেন।
এসব কারণে ট্রাম্পকে ইরানে হামলার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের চেয়ার বাঁচানোর দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তার সহকারীরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। যদিও তার উপদেষ্টারা তাকে মার্কিনীদের দিকে বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
২০২৬ সালের নির্বাচনটি ট্রাম্পের প্রথম দুই বছরের কাজের ওপর একটি ‘গণভোট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা যদি হাউসের নিয়ন্ত্রণ পায়, তবে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করতে পারবে। এর ফলে বিভিন্ন তদন্ত, শুনানি এবং সাক্ষ্য দেওয়ার তলব জারির মাধ্যমে প্রশাসনকে রক্ষনাত্মক অবস্থানে ঠেলে দেওয়া হতে পারে।
বিভি/এমএফআর



মন্তব্য করুন: