ট্রাম্পের শুল্ক বাতিলের পর বাণিজ্য আলোচনায় গড়িমসি করছে ভারত (ভিডিও)
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক আরোপে বাধা দেওয়ার পর সৃষ্ট অনিশ্চয়তার কারণে ওয়াশিংটনে নির্ধারিত বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠানো স্থগিত করেছে ভারত। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভারতের একটি প্রতিনিধি দলের ওয়াশিংটনে উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। সেখানে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্কের আইনি ভিত্তি অবৈধ ঘোষণা করায় এখন চুক্তি নিয়ে গড়িমসি করছে ভারত।
ভারতের নয়াদিল্লিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে রয়টার্স। সূত্রটি জানায়, দুই দেশের কর্মকর্তাদের আলোচনার পরই সফর স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন কোনো তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।
এর আগে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র প্রায় একমত হয়েছিল যে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২৫% শুল্কের বদলে ভারতের পণ্যে ১৮% শুল্ক আরোপ করা হবে। বিনিময়ে ভারত প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার একটি রোডম্যাপ দিতে রাজি হয়েছিল। যার মধ্যে জ্বালানি, উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু এবং প্রযুক্তিপণ্য রয়েছে। এছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে যে অস্বস্তি ছিল, তা কাটাতেও একটি খসড়া তৈরি ছিলো।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ভারতেরর পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মূখপাত্র রানধীর জাসোয়াল ঘোষণা দেন যে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের এই বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব শীঘ্রই চুক্তিটি কার্যকর করতে আলোচনায় বসবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। কিন্তু ঠিক একই দিনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্কের আইনি ভিত্তি অবৈধ ঘোষণা করে। এতে পুরো সমীকরণ বদলে যায়। ভারত বুঝতে পারে, যে ১৮% শুল্কের চুক্তিতে তারা সই করতে যাচ্ছিল, আদালতের রায়ের পর সেই শুল্কের আর কোনো অস্তিত্বই নেই।
আগে যেখানে ২৫% শুল্কের হুমকি ছিলো, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তা বাতিল হয়েছে। এখন ট্রাম্পের নতুন বৈশ্বিক শুল্কের হার ১৫%। ফলে ভারত এখন হিসাব কষে দেখছে যে, আলাদা চুক্তি করে ১৮% শুল্ক দেওয়া লাভজনক, নাকি নতুন বৈশ্বিক হারের সুবিধা নেওয়া বেশি যুক্তিযুক্ত। ফলে চুক্তি সই করার চেয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণেই এখন বেশি মনোযোগ দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
ট্রাম্পের এই ১৫% বৈশ্বিক শুল্কের ঘোষণা আগামী ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসকে দিয়ে এটি স্থায়ী করানোর চেষ্টা করবেন। ভারত যে ৫০০ বিলিয়ন ডলার কেনাকাটার টোপ দিয়েছে, ট্রাম্প চাইবেন সেই সুযোগ হাতছাড়া না করতে।
অন্যদিকে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন খতিয়ে দেখছে যে, ট্রাম্পের এই নতুন ১৫% শুল্কের ঘোষণা কতদিন টিকবে। ভারত হয়তো এক্ষেত্রে শুল্কের হার ১৫% থেকেও কমিয়ে আনার দাবি তুলতে পারে। সেই সাথে ভবিষ্যতে আর কোনো 'শাস্তিমূলক শুল্ক' বসানো হবে না, এমন প্রতিশ্রুতিও চেয়ে বসতে পারে ভারত সরকার।
বিভি/এমএফআর



মন্তব্য করুন: