• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

খামেনির পর ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন? (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১৫:৫৪, ১ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যিনি বজ্রমুষ্ঠিতে আগলে রেখেছিলেন নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব, তার অনুপস্থিতি দেখা দিয়েছে এক বিশাল শূন্যতা।  ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্বের দায়ভার কার কাছে যাচ্ছে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। 

দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরানে এই মুহূর্তে তিন সদস্যের একটি পরিষদ দায়িত্ব নেবে।  এই পরিষদে থাকবেন দেশের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ। এই তিনজন সাময়িকভাবে দেশের সব নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন।

নেতৃত্বের রূপান্তর প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষদ রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ দেখবে। নতুন সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে এই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা না আসলেও খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় উঠে আসছে কয়েকজনের নাম।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন খামেনির দ্বিতীয় পুত্র ৫৬ বছর বয়সী মোজতাবা খামেনি। মোজতবা খামেনি প্রভাবশালী ইসলামিক রেভুলশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য পরিচিত। তবে ইরানের শিয়া শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রক্ষমতায় পিতা-পুত্রের উত্তরাধিকারকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এছাড়া মোজতবা খামেনি খুব উচ্চ পর্যায়ের ইসলামি পণ্ডিত নন এবং এখন পর্যন্ত শাসনব্যবস্থায় তার কোনো আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেই।

আলোচনায় আরও আছেন ৬৭ বছর বয়সী আলীরেজা আরাফি। তিনি ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি ইরানের প্রভাবশালী 'গার্ডিয়ান কাউন্সিল'-এর একজন সদস্য 'শরিয়া মাদ্রাসাগুলোর প্রধান' হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আরাফি ইরানে তেমন পরিচিত ব্যক্তি না হলেও তিনি খামেনির আস্থাভাজন ছিলেন। 

উত্তরসূরি হিসেবে উঠে আসছে রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনির নামও । ৫৩ বছর বয়সী হাসান খোমেনির সমাধিসৌধের প্রধান রক্ষকের দায়িত্বে আছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি সরকারের প্রশাসন পর্যায়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসেননি। ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরেও তার প্রভাব কম। এছাড়াও আলোচনায় আছেন বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই, খামেনির দপ্তরপ্রধান আলী আসগর হেজাজি এবং কেন্দ্রীয় আলেম পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি। 

১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর, 'অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস' আলী খামেনিকে ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। দীর্ঘ ৩৭ বছর আবারও সেই একই ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে পারস্যভূমি। ফলে খামেনির উত্তরসূরি যেই হোক না কেন, তার কাঁধে থাকবে ইরানিদের অসমাপ্ত লড়াই শেষ করার গুরুভার দায়িত্ব।  

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত