মধ্যপ্রাচ্য থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি দ. কোরিয়ার
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের যৌথ হামলার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত নাগরিকদের সরিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার নাগরিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বহুমাত্রিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা, সামরিক পরিবহন বিমান প্রস্তুত রাখা, জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা ও জ্বালানি নিরাপত্তা সব ক্ষেত্রেই পূর্ণ সতর্কতা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে পূর্ণ প্রস্তুতির নির্দেশ দেন। প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইনে চার দিনের সফরে থাকায় এ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিদেশে থাকা আমাদের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের ১৩টি দেশে বর্তমানে প্রায় ২১ হাজার দক্ষিণ কোরীয় অবস্থান করছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণকারী এবং ১৭ হাজার দীর্ঘমেয়াদি প্রবাসী।
শুধু দুবাইয়েই প্রায় ২ হাজার কোরীয় আটকে আছেন বলে জানা গেছে। যাদের অনেকেই ইউরোপ বা আফ্রিকায় যাওয়ার পথে ট্রানজিট হিসেবে সেখানে অবস্থান করছিলেন। ইরানে রয়েছেন ৫৯ জন কোরিয়ান নাগরিক (দূতাবাস কর্মী বাদে) এবং ইসরায়েলে রয়েছেন ৬১৬ জন।
দ্বিতীয় উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম জিনা জানান, সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে যার মধ্যে রয়েছে নিরাপদ অঞ্চলে স্থানান্তর এবং প্রয়োজনে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা। এখন পর্যন্ত কোনো কোরিয়ান নাগরিক হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সরকার ভ্রমণ সতর্কতাও জারি করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে বিশেষ ভ্রমণ সতর্কতা আরোপ করা হয়েছে। সৌদি আরবের কিছু অঞ্চলে সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে ইরান, ইসরায়েল, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েত তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী কো উং চিওল সতর্ক করে বলেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়তে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে।
প্রায় ২০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাসও একই পথ দিয়ে আসে। ফলে ওই অঞ্চলের অস্থিরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে পর্যাপ্ত তেলের মজুত রয়েছে, তবে বিকল্প সরবরাহ পথ ও অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।
বিভি/টিটি



মন্তব্য করুন: