ইরানি মিডিয়ার বিস্ফোরক দাবি— ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত নেতানিয়াহু!
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিহত হওয়ার গুঞ্জন। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ইরানের একটি মিসাইল হামলার ঘটনায় নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে প্রতিবেদনে এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। একই সঙ্গে ওই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি পক্ষ এসব খবরকে যুদ্ধকালীন ‘গুজব’, ‘অপপ্রচার’ ও ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দিন ধরে নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে কোনো নতুন ভিডিও বার্তা বা প্রকাশ্য বক্তব্য সামনে আসেনি। পাশাপাশি জেরুজালেমে তার সরকারি বাসভবনের নিরাপত্তা হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে জোরদার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয়কে ঘিরেই নানা জল্পনা ছড়াতে শুরু করেছে। তেহরানের বিশ্লেষকরা আরও দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নির্ধারিত ইসরায়েল সফর স্থগিত হওয়াও নেতানিয়াহুর শারীরিক অবস্থা নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
এছাড়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে নেতানিয়াহুর একটি ফোনালাপের বিবৃতি সম্প্রতি প্রকাশিত হলেও সেখানে কথোপকথনের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তাসনিম নিউজ তাদের প্রতিবেদনে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের একটি বক্তব্যেরও উল্লেখ করেছে। রুশ গণমাধ্যমে প্রচারিত তার উদ্ধৃতি অনুযায়ী বলা হয়েছে, ইরান নেতানিয়াহুর একটি গোপন অবস্থানে বোমা হামলা চালিয়েছে। সেই হামলায় নেতানিয়াহুর এক ভাই নিহত হয়েছেন। তবে এসব বক্তব্যের সমর্থনে কোনো স্বতন্ত্র তথ্য বা নির্ভরযোগ্য সূত্র তুলে ধরা হয়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ৯ মার্চ প্রকাশিত একটি পোস্টে স্কট রিটার দাবি করেছিলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আঘাত হেনেছে এবং সেই হামলায় ঘটনাস্থলেই নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন। পোস্টটিতে আরও বলা হয়, সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির, তিনি হামলায় আহত হন। তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি সত্যিই স্কট রিটারের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট কি না, কিংবা সেটি ভুয়া কি না—এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তাসনিম নিউজ নিজেও স্বীকার করেছে, এসব দাবির এখনো এখনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনার এই সময়ে এ ধরনের খবর বা গুজব ছড়িয়ে পড়া অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে তথ্যযুদ্ধ বা মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের অংশ হিসেবেও এমন প্রচারণা চালানো হয়।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুজবের সরাসরি জবাব না দিলেও দেশটির সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁর চলাফেরা ও অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও ওই সূত্র জানিয়েছে।
বিভি/এইচজে



মন্তব্য করুন: