ইসরাইলে হিজবুল্লাহর নজিরবিহীন হামলা!
ইসরাইলে লেবাননের প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর এক নজিরবিহীন হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ১২ মার্চ রাতে ইসরাইলের উত্তর ও মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে এক নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে এই গোষ্ঠী।
লেবানন সীমান্ত থেকে অন্তত দেড়শোটিরও বেশি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যেটিকে চলতি মাসে শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইরানও একই সাথে ইসরাইলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। ফলে এটি একটি সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত অভিযানে রূপ নেয়।
টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, রাত থেকে ভোর অব্দি চলা এই আক্রমণের ফলে ইসরাইলজুড়ে সতর্কতা সাইরেন বাজতে শুরু করে। লাখ লাখ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বাঙ্কারে আশ্রয় নেয়। উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলো, বিশেষত নাহারিয়া, একর এবং হাইফা, ড্রোন ও রকেট হামলার কবলে পড়ে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী- আইডিএফ জানিয়েছে, বেশিরভাগ রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছে তারা, তবে কিছু এলাকায় আঘাতের খবরও পাওয়া গেছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের তেল আবিবে সামরিক গোয়েন্দা ইউনিটের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ব্যারেজ ছুঁড়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে যে, তারা হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই আক্রমণ চালিয়েছে যাতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা যায়। হামলার তীব্রতা এতটাই ছিল যে গ্যালিলি থেকে শুরু করে হাইফা পর্যন্ত এবং সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার ভেতরের বিভিন্ন জনপদেও সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়।
এদিকে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরাইলি বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়ে অঞ্চলে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার এবং অস্ত্রাগারগুলো ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে অভিযান পরিচালনা করছে। সামরিক কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ আরও তীব্র আক্রমণ চালাতে পারে এবং লেবাননের পরিস্থিতি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
ইসরাইলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে ইসরাইল বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালাবে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং ইসরাইলি চ্যানেল টুয়েলভ রিপোর্ট করেছিল যে ইরান ও হিজবুল্লাহ থেকে তেল আবিবের উপর একটি বড় আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। সেই আশঙ্কা ১১ মার্চ রাতের বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে, যখন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র জেরুজালেম এবং দেশের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত সতর্কতা সংকেত বাজাতে বাধ্য করেছে।
লেবানন থেকে আকস্মিক এমন জোরালো আক্রমণ ইসরাইলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। এর মধ্য দিয়ে ইসরাইল-লেবানন সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করছে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
বিভি/এইচজে



মন্তব্য করুন: