ইতেকাফ অবস্থায় মসজিদে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ভারতজুড়ে উত্তেজনা
মসজিদে বসে থাকা প্রতীকী ছবি। ইনসেটে মসজিদে আগুন দেওয়ার দৃশ্য
এবার পবিত্র রমজানের মধ্যেও ন্যাক্কারজনক সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটলো ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে। রমজানের শেষ দশকে মুসলিমদের অন্যতম ইবাদত ইতিকাফে থাকা অবস্থায় রাজ্যের পালওয়াল জেলার টিকরি ব্রাহ্মণ গ্রামের একটি মসজিদে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা মসজিদের জানালা ভেঙে ভেতরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ মার্চ, মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ১টা ২৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনাটি ঘটে।
সেই সময় মসজিদের ইমাম জুবের এবং আরও তিনজন—ইকবাল, হানিফ ও সোহেল ইতিকাফ পালন করছিলেন। ধোঁয়া ও তাপ অনুভব করে তারা জেগে ওঠেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে স্থানীয় গ্রামবাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
এই ঘটনায় ইমাম জুবেরের অভিযোগের ভিত্তিতে রামরূপসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পালওয়ালের পুলিশ সুপার বরুণ সিংলা নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে স্পেশাল ক্রাইম ইউনিট ও সাইবার সেলকে যুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, এই ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, গত কয়েক বছর ধরেই এই গ্রামে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এর আগেও বিভিন্ন সময় মিথ্যা অজুহাতে মুসলিমদের হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন মসজিদে জুমার নামাজে বাধা দেওয়া, রাস্তায় নামাজে দাঁড়ানো মুসল্লীদের মারধর, মসজিদ ভাঙচুর, গরুর মাংস বহনকারী সন্দেহে মুসলিম নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা করার মতো ঘটনা ঘটেছে।
বিভি/এজেড



মন্তব্য করুন: