• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

ইরানে হামলা: লক্ষ্য অর্জনে কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ১২:১৬, ৩১ মার্চ ২০২৬

ফন্ট সাইজ
ইরানে হামলা: লক্ষ্য অর্জনে কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও দাবি করেছেন, ইরানের নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্প কাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন তার লক্ষ্য অর্জনে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় নেবে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের আধিপত্য কোনোভাবেই মেনে নেবেন না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্ক রুবিও বলেন, “আমরা ইরানের নৌবাহিনী এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার একটি বড় অংশ ধ্বংস করে দিচ্ছি। তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে তারা নতুন ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন তৈরি করতে না পারে।” তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান ইরান তার ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কল্পনা করুন, দুই বছর পর তাদের হাতে যদি আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও কারখানা থাকত, তাহলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই ঝুঁকি মোকাবিলা করছেন।” হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেখানে ইরানের টোল আদায় বা স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার হুমকি সফল হতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো ‘সরাসরি’ আলোচনা হয়নি। তবে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ওয়াশিংটন আলোচনা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। মার্কিন কূটনীতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে—উত্তেজনা এখন চরমে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত কোনো চুক্তি না হলে বা হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত না করা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্র এবং খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা দ্বিতীয় মাসে গড়ানোয় বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: