চাঁদে যাত্রার অর্ধেক পথে টয়লেট নিয়ে বিপাকে নভোচারীরা!
প্রায় ৫৩ বছর পর চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা করা আর্টেমিস-২ অভিযান ইতোমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি পথ অতিক্রম করেছে। তবে মিশনে থাকা চার মহাকাশচারী সাময়িক জটিলতায় পড়েছেন বলে জানা গেছে। ১৬.৫ ফুট (প্রায় ৫ মিটার) প্রশস্ত ওরিয়ন ক্যাপসুলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি দেখা দেয়। পরে, দীর্ঘ চেষ্টায় তা সমাধানও করা হয়। সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মিশনের ফ্লাইট ডিরেক্টর জাড ফ্রিলিং জানান, শনিবার (৪ এপ্রিল) ভোরে মিশনের তৃতীয় দিনে টয়লেট থেকে বর্জ্য নিষ্কাশনের প্রক্রিয়ায় সমস্যা ধরা পড়ে। ধারণা করা হয়, ভেন্ট লাইনে জমে থাকা প্রস্রাব বরফে পরিণত হওয়ায় এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
সেসময় প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত নাসার মহাকাশচারী রেইড ওয়াইসম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন ঘুমিয়ে ছিলেন। এদিকে, মিশন কন্ট্রোল দল সমস্যার সমাধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।
পরে ক্যাপসুলটিকে সূর্যের দিকে ঘুরিয়ে জমে থাকা বরফ গলানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে আংশিকভাবে সমস্যার সমাধান হয় এবং কিছু তরল বর্জ্য মহাশূন্যে নির্গত করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে জানানো হয়, টয়লেট আংশিক সচল হলেও তা কেবল কঠিন বর্জ্য ব্যবহারের জন্য উপযোগী ছিল।
দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মধ্যরাতে ঘোষণা আসে, টয়লেট সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের উপযোগী হয়েছে। এতে মহাকাশচারীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন। মিশন কন্ট্রোলের ক্যাপসুল কমিউনিকেটর জ্যাকি মাহাফি নভোচারীদের জানান, “আপনারা এখন সব ধরনের টয়লেট ব্যবহার করতে পারবেন।” জবাবে ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, “ধন্যবাদ!”
এদিকে উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণ পরই টয়লেটের পাম্প কাজ না করার সমস্যা দেখা দেয়। পরে জানা যায়, পাম্প চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি সরবরাহ করা হয়নি। পানি যোগ করার পর সেটি স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু করে। টয়লেট অচল থাকায় মহাকাশচারীদের সাময়িকভাবে বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়, যা অ্যাপোলো যুগের মতো ব্যাগভিত্তিক পদ্ধতি। সে সময় মহাকাশচারীদের জন্য কোনো টয়লেট ছিল না এবং তারা ব্যাগ ব্যবহার করতেন।
মিশন ম্যানেজমেন্ট টিমের চেয়ারম্যান জন হানিকাট বলেন, মহাকাশে টয়লেটজনিত সমস্যা নতুন নয়; স্পেস শাটল মিশনেও এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, নভোচারীরা সুস্থ আছেন এবং এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ রয়েছে। ওরিয়ন ক্যাপসুলের মেঝের নিচে থাকা এই টয়লেটে গোপনীয়তার জন্য দরজা ও পর্দার ব্যবস্থা রয়েছে।
১০ দিনের এই মিশনটি আগামী ১০ এপ্রিল প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে শেষ হবে। চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের লক্ষ্যে এটি নাসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সংস্থাটি ২০২৮ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে দুইজন নভোচারী অবতরণ করানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: