• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

এবার নাগরিকত্ব প্রমাণে আদালতে যাচ্ছেন মীর জাফরের সেই বংশধররা

প্রকাশিত: ১৯:০৪, ৫ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
এবার নাগরিকত্ব প্রমাণে আদালতে যাচ্ছেন মীর জাফরের সেই বংশধররা

ভারতে মীর জাফরের ৩৪৬ জন বংশধরের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ঐতিহাসিকভাবে প্রভাবশালী এ বংশের উত্তরসূরিরা এবার নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী মীর জাফরের বংশধরদের দাবি, তাদের ভারতীয় পরিচয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই। তারা জানান, অতীতে তাদের বংশের একজন সদস্য দেশভাগের সময় পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ভারতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু এত বছর পর তারা ভারত সরকারের নানা জটিলতায় পড়েছেন।

মুর্শিদাবাদের লালবাগের ঐতিহাসিক কেল্লা নিজামাত এলাকার কাছে বসবাসকারী এই পরিবার জানায়, একসময় তাদের পূর্বপুরুষরা বিচারকার্য পরিচালনা করতেন, আর আজ তাদেরই নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে আপিল করার সুযোগ থাকলেও পরিবারটির আশঙ্কা—প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে তারা আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। আগামী ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আর. অর্জুন জানান, নবাব পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বড় আকারে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তাদের যথাযথ আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

এই পরিবারটি একসময় বাংলা, বিহার ও ওড়িশা অঞ্চল শাসন করত। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সমর্থনে মীর জাফর নবাব হন। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার লালবাগ এলাকার একটি ভোটকেন্দ্রের তালিকায় ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই পরিবারের সদস্যদের নাম ছিল। তবে সাম্প্রতিক বিশেষ সংশোধনের পর তাদের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ হিসেবে চিহ্নিত করে পরবর্তীতে মুছে ফেলা হয়।

‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত ৮২ বছর বয়সী সৈয়দ রেজা আলি মির্জা জানান, তার পরিবারের ৯ জন সদস্যসহ শতাধিক আত্মীয়ের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তার ছেলে তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ ফাহিম মির্জা বলেন, তাদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকাতেও ছিল। হঠাৎ করে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না। তবে তারা হাল ছাড়বেন না; নাগরিকত্ব প্রমাণে আদালতে যাবেন।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: