• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

আর্টেমিস-২: চাঁদের অন্ধকারে ৪০ মিনিটের নীরব মহাজাগতিক অভিযান

প্রকাশিত: ১০:৪৪, ৭ এপ্রিল ২০২৬

ফন্ট সাইজ
আর্টেমিস-২: চাঁদের অন্ধকারে ৪০ মিনিটের নীরব মহাজাগতিক অভিযান

৫৩ বছর পর আবারও চাঁদের ওপর এক রোমাঞ্চকর ও রহস্যময় অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো মানবসভ্যতা। নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের ওরিয়ন মহাকাশযান সম্প্রতি চাঁদের অন্ধকার অংশে (ফার সাইড) প্রবেশ করলে পৃথিবীর সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এই পূর্বপরিকল্পিত ‘নীরবতার’ সময়টুকুতে চার নভোচারী মহাবিশ্বের নিঃশেষ নির্জনতায় কাটান। পৃথিবীর কোনও প্রান্ত থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি টানা ৪০ মিনিট ধরে। এমন পরিস্থিতি প্রকৌশলীরা আগে থেকেই অনুমান করেছিলেন; তবু বাস্তবে সিগন্যাল বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পৃথিবী থেকে দূরে থাকা মুহূর্তগুলো ছিল বেশ উদ্বেগজনক। এই সময় মহাকাশযান সম্পূর্ণভাবে তার প্রি-প্রোগ্রামড কম্পিউটারের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগ মুহূর্তে পাইলট ভিক্টর গ্লোভার আবেগঘন বার্তা পাঠান। তিনি লেখেন, “পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রহস্য হলো ভালোবাসা। নিচের সবাইকে আমরা চাঁদ থেকে অনেক অনেক ভালোবাসি।”

নাসার কমিউনিকেশন ডেস্কের লিয়া চেশিয়ার মুস্তাচিও বিদায় জানানোর সময় বলেন, “আমরা তোমাদের অপর প্রান্তে দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।”

এবার গ্লোভারের সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, “দেখা হবে ওই প্রান্তে।” এরপরই শুরু হয় সেই দীর্ঘ ৪০ মিনিটের নীরবতা।

নভোচারীরা জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখছিলেন চাঁদের রুক্ষ ও প্রাচীন ল্যান্ডস্কেপ, যা মানুষ কেবল রোবটের মাধ্যমে ম্যাপ করতে পেরেছে। সুউচ্চ পর্বত, প্রাচীন উল্কাপাত ও গভীর গর্তের মিশ্রণ একদিকে মনোমুগ্ধকর, অন্যদিকে ভয়ঙ্কর। সেখানে মিশন কন্ট্রোলের কোনো নির্দেশনা ছিল না, কেবল মহাকাশযানের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির হালকা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল।

অবশেষে নীরবতা ভেঙে যখন ওরিয়ন পৃথিবীর সিগন্যাল সীমানায় ফিরে আসে, পুরো বিশ্ব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হওয়ার পর কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন নাসার ভিউয়িং গ্যালারিতে থাকা তার স্ত্রী এবং ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমরা এখানে যে রোমাঞ্চ অনুভব করেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। চাঁদের অপর পিঠে থাকা এবং সেখান থেকে পৃথিবীর দিকে তাকানো এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমরা দ্রুতই ফিরে আসছি।”

আর্টেমিস-২ মিশনের এই সফল ‘ফ্লাই বাই’ এবং মহাকাশযানের গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিন বার্ন নভোচারীদের পৃথিবীতে নিরাপদ ফেরার পথ নিশ্চিত করেছে। চাঁদের অন্ধকার অংশে কাটানো সেই ৪০ মিনিট মানব মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক অনন্য, শিহরণ জাগানো মুহূর্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: