সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেও কেন এআই উন্নয়ন নিয়ে এতো মরিয়া ট্রাম্প?
ছবি: এআই জেনারেটেড
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে সম্ভাব্য বিপদ ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন সতর্কবার্তা বাড়ছে, তখন ঠিক উল্টো পথে হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এআইয়ের কারণে ‘রোবট শহরে ঢুকে মানুষকে শেষ করে দেবে’—এমন আশঙ্কাকে তিনি ‘ভাঁওতা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে প্রযুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। কিন্তু কেন এআই নিয়ে এতটা মরিয়া ট্রাম্প?
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক পোস্টে এআইয়ের পক্ষে নিজের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি নিজেকে ‘ভাঁওতা ধরিয়ে দেওয়ার ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রযুক্তিটির সুফল নিয়ে সংশয় প্রকাশকারীদের সমালোচনা করেন।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এআই নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে বড় পরিবর্তনের আশঙ্কার পাশাপাশি এর সম্ভাব্য বিপজ্জনক প্রভাব নিয়েও সতর্ক করছেন প্রযুক্তি খাতের কিছু ব্যক্তি ও রাজনীতিক। এমনকি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রাম্প অবশ্য এসব সতর্কবার্তায় দমছেন না। তার দৃষ্টিতে এআই শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার। সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন এআই নিয়ে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও ট্রাম্প মনে করেন, নতুন আইন বা অতিরিক্ত ‘গার্ডরেল’ নয়, বরং শক্তিশালী প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।
এআইয়ের প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহের পেছনে অর্থনৈতিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে এআই অবকাঠামো, কম্পিউটার চিপ ও ডেটা সেন্টারে বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে। অর্থনৈতিক পূর্বাভাসকারী প্রতিষ্ঠান আইএনজির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এসেছে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ থেকে।
ট্রাম্প একই সঙ্গে এআইকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, ‘যে এআইয়ে জিতবে, সে-ই জিতবে।’ ফলে প্রযুক্তিটির বিকাশে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা। ডেভিড স্যাকস এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়তে থাকা আতঙ্কের সমালোচনা করেছেন। ইলন মাস্ক, মার্ক জাকারবার্গ, জেফ বেজোস ও স্যাম অল্টম্যানসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গেও ট্রাম্পের যোগাযোগ রয়েছে। তবে এআই নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাদের অবস্থান এক নয়।
এদিকে কংগ্রেসে এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন করার উদ্যোগ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের প্রার্থীরাই এআই নিয়ে জনমতের বিষয়টি বিবেচনায় রাখছেন।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপিয়ানের প্রধান ম্যাট ক্যালকিন্সের মতে, এআই নিয়ে বিতর্ক ইতোমধ্যে প্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এআই-সম্পর্কিত কোনো বড় বিপর্যয় ঘটলে জনমত দ্রুত বদলে যেতে পারে। তখন এআই নিয়ে ট্রাম্পের বর্তমান অবস্থানও আরও বড় রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: বিবিসি
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: