ডিপফেক ভিডিও শনাক্তে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথমবার এআই মডেল আনছে দুবাই
ছবি: খালিজ টাইমস
ডিপফেক ভিডিও শনাক্তে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল আনছে দুবাই। ‘সারাব’ (SARAAB) নামের এই মডেল ভিডিও বিশ্লেষণ করে কোন অংশে ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তা শনাক্ত করার পাশাপাশি মুখের নির্দিষ্ট পরিবর্তিত অংশগুলো হিটম্যাপের মাধ্যমে তুলে ধরবে। দুবাই ইলেকট্রনিক সিকিউরিটি সেন্টার (ডিইএসসি) জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ মডেলটি চালু করা হবে।
ডিইএসসির সিনিয়র আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এক্সিকিউটিভ হাসান মাজিদ আলখাজরাজি খালিজ টাইমসকে বলেন, দুই মিনিটের একটি ভিডিও হলে মডেলটি পুরো দুই মিনিটের ভিডিওই বিশ্লেষণ করবে। ভিডিওর শেষ ৩০ সেকেন্ডে ডিপফেক থাকলেও সেটিও শনাক্ত করা হবে।
তিনি জানান, ‘সারাব’-এর নির্ভুলতার হার ৯১ শতাংশ, যা বিশ্বে এ ধরনের প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অন্যতম সর্বোচ্চ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুবাইয়ের এক্সপো সিটিতে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী সাইবার নিরাপত্তা প্রদর্শনী ও সম্মেলন ‘গিসেক গ্লোবাল’-এর প্রথম দিনে মডেলটি তৈরির ঘোষণা দেয় ডিইএসসি। সম্মেলনটি ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ডিইএসসি জানিয়েছে, ‘সারাব’ ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে প্রকাশ করা হবে। ফলে ব্যবহারকারীরা এর সোর্স কোড দেখতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি পরিবর্তন বা উন্নত করতে পারবেন। ডিইএসসির কর্মকর্তা আলখাজরাজি বলেন, আরব অঞ্চলে কোনো সরকারি সংস্থার তৈরি এটিই প্রথম এ ধরনের মডেল।
গিসেক গ্লোবাল সম্মেলনে ডিইএসসি ‘দুবাই সাইবার স্কিলস ফ্রেমওয়ার্ক’ও চালু করেছে। সাইবার নিরাপত্তা খাতের পেশাজীবীদের যোগ্যতা, সার্টিফিকেশন, প্রশিক্ষণের পথ এবং ক্যারিয়ার উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো হিসেবে এটি কাজ করবে।
এই কাঠামো সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবী, নিয়োগদাতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ প্রদানকারীদের জন্য অভিন্ন পদ্ধতি তৈরি করবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা পরিমাপ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এটি সহায়তা করবে।
এ ছাড়া ডিইএসসি ‘আইএসআর অডিটর সার্টিফিকেশন প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে অডিটর ও তথ্যনিরাপত্তা পেশাজীবীরা নির্ধারিত পদ্ধতি ও মানদণ্ড অনুসরণ করে তথ্যনিরাপত্তা বিধিমালা (আইএসআর) মেনে চলার বিষয়টি মূল্যায়ন করতে পারবেন।
ডিইএসসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ হামাদ আল শাইবানি বলেন, পরিবর্তন অনুমান করা, জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো এবং চ্যালেঞ্জকে উদ্ভাবন ও অগ্রগতির সুযোগে রূপান্তরের মাধ্যমে দুবাই সাইবার নিরাপত্তার একটি উন্নত মডেল তৈরি করে চলেছে।
তিনি বলেন, নেতৃত্ব মানে শুধু পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা নয়; বরং পরিবর্তন আগেই অনুমান করা এবং ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখা।
ডিইএসসির ভাষ্য, গিসেক গ্লোবালে চালু করা এসব উদ্যোগ সেই লক্ষ্যকেই প্রতিফলিত করছে। দুবাইয়ে তৈরি প্রযুক্তি ও দক্ষতাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রভাব তৈরি করতে চায় সংস্থাটি।
সূত্র: খালিজ টাইমস
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: