১৩ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব ইইউ কমিশনের
১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় কমিশন। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য নিরাপদ অ্যাকাউন্ট তৈরি এবং অনলাইন সেবাগুলোতে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন নিয়ম চালুর পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে এই বিস্তৃত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রস্তাবিত ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’-এর আওতায় ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ রাখার বিধান থাকবে।
ফন ডার লেয়েন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শিশুরা বর্তমানে সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিগুলোর কিছু ব্যবহার করছে। অথচ এসব প্রযুক্তি শিশুদের কল্যাণ ও বিকাশের বিষয়টি মাথায় রেখে তৈরি করা হয়নি। প্রস্তাবিত আইনটি বাস্তব জীবনের মতো ডিজিটাল জগতেও শিশুদের জন্য স্পষ্ট সীমারেখা তৈরি করবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন ভিডিও গেম, এআই-নির্ভর ভার্চুয়াল সঙ্গী ও চ্যাটবট ব্যবহারে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
এসব সেবায় আসক্তি তৈরি করতে পারে—এমন বিভিন্ন ফিচার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে থাকবে ব্যবহারকারীর প্রোফাইলভিত্তিক রিকমেন্ডেশন ফিড, অসীম স্ক্রলিং, পুরস্কার বা আকর্ষণ তৈরির কৌশল এবং অপরিচিত ব্যক্তির অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ। শিশুদের জন্য তৈরি এআই সঙ্গী ও চ্যাটবট ডিফল্টভাবে বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদ অ্যালগরিদম তৈরি করতে হবে। অভিভাবকদের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং কোনো ব্যবহারকারীকে ব্লক ও মিউট করার সুবিধাও রাখতে হবে।
তবে প্রস্তাবটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। আগামী কয়েক মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার পর এটি আইনে পরিণত হতে পারে।
শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, তুরস্কসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব ও চ্যাটজিপিটির মতো প্ল্যাটফর্ম শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই ইইউর এই উদ্যোগ সামনে এলো।
তবে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে গিয়ে যেসব চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে, তাতে ইউরোপেও এ ধরনের বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
বিভি/পিএইচ













মন্তব্য করুন: