• NEWS PORTAL

  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হুথিদের সঙ্গে গোপন বৈঠক! বাব আল-মান্দেবে ব্যাপক চাপে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ১৭:০৯, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৭:১৪, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
হুথিদের সঙ্গে গোপন বৈঠক! বাব আল-মান্দেবে ব্যাপক চাপে যুক্তরাষ্ট্র

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইয়েমেনের হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। ইরান সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠী লোহিত সাগরের বাব আল মান্দেবসহ উপকূলীয় বেশকিছু কৌশলগত অংশ দখল করে নেয়ার পরপরই তাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের এই গোপন বৈঠকে খবর সামনে এলো। হুথিদের ওই অভিযানে সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনী পরাজিত হয়ে পিছু হটে।

রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওমানের রাজধানী মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঐ বৈঠক করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বৈঠকটির কথা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। ওমান সরকার, দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে, এই আলোচনায় সহায়তা করেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে হুথি প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা ২০২৫ সালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে আগ্রহী। এর আওতায় থেকে মার্কিন জাহাজে হামলার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। হুথিরা ইসরায়েলি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা না করার বার্তা দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে সৌদি মালিকানাধীন জাহাজকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইয়েমেনি যোদ্ধারা। 

বৈঠকে হুথিদের পক্ষে মাসকাটভিত্তিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুলসালাম উপস্থিত ছিলেন বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। তার সঙ্গে আবদেলমালিক আল-আজিরিও ছিলেন বলে একটি সূত্রের দাবি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বৈঠকটির কথা সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেনি। 

এই গোপন যোগাযোগের পেছনে রয়েছে ইয়েমেনে হুথিদের সাম্প্রতিক বড় সামরিক অগ্রগতি। সেপ্টেম্বরের শুরুতে তারা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে পিছু হটিয়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা এবং বাব আল-মান্দেবের কাছে পেরিম দ্বীপ। রয়টার্সসহ বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অগ্রগতি লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথে হুথিদের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।

বাব আল-মান্দেব বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এর মাধ্যমে লোহিত সাগর হয়ে জাহাজ চলাচল করে সুয়েজ খাল ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে। ফলে এই জলপথে সংঘাত বাড়লে জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক হুথি অগ্রগতির পর এ কারণেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে।

ওই ঘটনার পর গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হুথিরা তার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইয়েমেনের যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার অনুরোধ করেছে। সোমবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও হুথিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কথা স্বীকার করেন। তবে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

হুথিদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই যোগাযোগ আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের মার্চে গোষ্ঠীটিকে ফরেন টেররিস্ট অর্গানাইজেশন বা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। সে বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। এখন ইয়েমেনে হুথিদের দ্রুত সামরিক অগ্রগতি এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা-উদ্বেগের মধ্যে মাসকাটের এই বৈঠক দেখাচ্ছে, লোহিত সাগরে সরাসরি সংঘাত এড়ানোর প্রশ্নটি ওয়াশিংটনের জন্য ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সৌদি আরবের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। হুথিদের অগ্রগতির পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করে মার্কিন সামরিক সহায়তা চেয়েছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এই সংঘাতে সরাসরি সামরিকভাবে জড়াতে আগ্রহী নয়। 

বিভি/এইচজে

মন্তব্য করুন: