এশিয়ার যে দেশে প্রতি ৫০ গর্ভবতীর একজন এইচআইভি আক্রান্ত, জরুরি অবস্থা জারি
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে এইচআইভি সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এ কারণে জাতীয় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে মহামারি হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফিজির স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা মন্ত্রী ড. রাতু আন্তোনিও লালাবালাভু জাতীয় স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, সাধারণ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। সংকটের ভয়াবহতা বিবেচনায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ফিজিতে প্রতি ৬০ জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। গর্ভবতী নারীদের মধ্যেও সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক—প্রতি ৫০ জনের একজন এইচআইভি আক্রান্ত। মাত্র পাঁচ বছর আগে দেশটিতে এই হার ছিল প্রতি ১৬৭ জনে একজন।
২০২৫ সাল পর্যন্ত ফিজিতে নতুন করে অন্তত ২ হাজার ৬০ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে।
জাতিসংঘের এইডস বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের তথ্য বলছে, ১০ লাখেরও কম জনসংখ্যার দেশটিতে ২০১০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ প্রায় ১২ গুণ বেড়েছে। বর্তমানে নতুন সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে—এমন দেশগুলোর তালিকায় ফিজি অন্যতম।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের একটি রুট হিসেবে ফিজির ব্যবহৃত হওয়া এবং অনিরাপদভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের প্রবণতা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতনতার ঘাটতি, সামাজিক কলঙ্কের ভয় এবং এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
ইউএনএইডসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফিজিতে এইচআইভি আক্রান্তদের ৫০ শতাংশের বেশি যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে এবং ৪২ শতাংশের বেশি ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের কারণে সংক্রমিত হয়েছেন।
২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশটিতে আনুমানিক ৯ হাজার ১০০ জন এইচআইভি নিয়ে বসবাস করলেও তাদের মাত্র ৩৯ শতাংশ নিজেদের সংক্রমণের বিষয়ে জানতেন। নিয়মিত অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাত্র ২২ শতাংশ।
ফিজির এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ইউএনএইডসের নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানইমা বলেন, দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। এইডসের মহামারি এখনো শেষ হয়ে যায়নি এবং এটি মোকাবিলায় দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
বিভি/টিটি













মন্তব্য করুন: