• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত, হাতে ৬০ দিন

প্রকাশিত: ১৩:০৮, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত, হাতে ৬০ দিন

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় নিতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময়ে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এরই মধ্যে রাশিয়াসংশ্লিষ্ট কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। তার এ সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ও ইউক্রেনের পক্ষ থেকে সমালোচনা উঠেছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজের মার-এ-লাগো ক্লাবে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমার সিদ্ধান্ত কী, তা এখনো আপনাদের অনেকেই জানেন না। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব, আর আপনারাও তা জানতে পারবেন।’

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে চাপে রয়েছেন ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে গ্রাহাম অ্যাক্টের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত করেন। গত মাসে আইনপ্রণেতাদের আহ্বানে তিনি আইনটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোই ছিল এর উদ্দেশ্য।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় রাশিয়ার পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানি করা দেশগুলোর পণ্যে শুল্ক আরোপের কথা ছিল। আগামী সপ্তাহ থেকে এসব ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে শুক্রবারের নির্বাহী আদেশে স্থগিতাদেশের মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) উজবেকিস্তান সফরের উদ্দেশে বিমানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করলে বিশ্ব অর্থনীতি, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও কী প্রভাব পড়বে, তা বিশ্লেষণ করতে প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের সময় নিতে চান বলে আমার ধারণা।’

গ্রাহাম অ্যাক্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এতে শুধু রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলা হয়নি; রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি করা দেশগুলোর পণ্যের ওপরও শুল্ক আরোপের বিধান রয়েছে।

রুবিও এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ভারতের কথা উল্লেখ করেন। ভারত জ্বালানির উৎস বহুমুখী করলেও দেশটি এখনো রাশিয়ার তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর সতর্কবার্তা, এ সিদ্ধান্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আরও উৎসাহিত করবে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে পারে।

দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর ডারলিন গ্রাহামও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাঁর প্রয়াত ভাই লিন্ডসে গ্রাহামের উদ্যোগে আইনটি প্রণীত হয়েছিল। আগামী সপ্তাহে ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে গেলে এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন ডারলিন।

শনিবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখার পক্ষেই থাকতাম। কারণ, আমি পুতিনকে বিশ্বাস করি না, রাশিয়াকেও বিশ্বাস করি না।’

এদিকে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক একটি চুক্তির পক্ষেও সাফাই দিয়েছেন রুবিও। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তা কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বর ও পরবর্তী সময়েও চালান পাঠানো হবে।

রুবিও বলেন, ‘ওই ডিজেল যেকোনো না কোনোভাবে বিক্রি হবেই। পার্থক্য শুধু এটুকু- এর কতটা যুক্তরাষ্ট্র পাবে।’

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জ থেকেই ডিজেল চুক্তি ও নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত এসেছে।

রুবিওর ভাষায়, ‘বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংঘাতগুলো এখন একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে।’

সূত্র: রয়টার্স

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত