ট্রাম্পের ‘মাদার অব অল বোম্বস’-এর জবাবে আসছে ইরানের ‘ফাদার অব অল বোম্বস’!
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদার অব অল বোম্বস’-এর বিপরীতে নতুন অস্ত্র উন্মোচনের চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ নামের এই অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র। একই সঙ্গে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগের তুলনায় অন্তত দেড় গুণ বেড়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত মাদার অব অল বোম্বস-এর বিপরীতে এবার নিজেদের ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ উন্মোচনের ঘোষণা দিলো ইরান। এটি শত্রুপক্ষের জন্য নতুন এক চমক হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী- আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইরানের ইয়ুথ জার্নালিস্টস ক্লাবে এক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে হোসেইন মোহেবি বলেন, ফাদার অব অল বোম্বস নামের নতুন এই মারণাস্ত্রটি উন্মোচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি শত্রুপক্ষকে চমকে দেবে। তবে অস্ত্রটির গঠন, ওজন, পাল্লা কিংবা ধ্বংসক্ষমতা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি তিনি। ফলে এটি ঠিক কী ধরনের অস্ত্র, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘোষণার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদার অব অল বোম্বস’খ্যাত বোমা দিয়ে ইরানে সম্ভাব্য হামলার যোগসূত্র আছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা প্রসঙ্গে জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বোম ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মাদার অব অল বোম্বস নামে পরিচিত প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি ওজনের এই বোমাটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ অপারমাণবিক বোমা। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে আইএসের একটি সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে এটি প্রথম ব্যবহার করা হয়। তবে ইরানের ঘোষিত নতুন অস্ত্রটি মার্কিন ঐ বোমার সমতুল্য কি না, কিংবা সেটি একই ধরনের প্রযুক্তিতে তৈরি কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়েও নতুন দাবি সামনে এনেছেন মোহেবি। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরা মধ্যে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের পর তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ঐ সময়ের চেয়ে দেড় গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, ধ্বংসক্ষমতা ও লক্ষ্যভেদ করার নির্ভুলতাও উন্নত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
ইরানের সামরিক নীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, আগে ইরান কেবল আক্রমণের জবাব দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতো। কিন্তু এখন সম্ভাব্য হামলার পর কেবল পাল্টা জবাব নয়, নতুন করে আক্রমণ চালানোর নীতিকেও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অসম যুদ্ধকৌশল ব্যবহারেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বিভি/এআই













মন্তব্য করুন: