• NEWS PORTAL

  • রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

চোখের সামনেই বেদখল হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি, কী ঘটছে হেব্রনে?

প্রকাশিত: ১৫:০৬, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

ফন্ট সাইজ
চোখের সামনেই বেদখল হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি, কী ঘটছে হেব্রনে?

ফিলস্তিনের হেব্রনে দুই ইসরাইলি সেনা নিহতের পর আগ্রাসী হয়ে উঠেছে ডানপন্থী নেতানিয়াহু সরকার। হামলার পরপরই ইসরাইলি বাহিনী হেব্রনের সব প্রবেশ পথ বন্ধ করে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অবরোধ আরোপ করেছে। শত শত ফিলিস্তিনি পরিবারকে জোরপূর্বক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা। 

সম্প্রতি ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের অংশ হিসেবে হেব্রনের 'আল-জালাদাহ' এবং 'আইন দাইর বাহা' এলাকায় প্রায় ১,২০০ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করা হয়। তাদেরই একজন রমজান হাশলামন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ''সেদিন সকালে একটি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে সেটিকে 'নিষিদ্ধ সামরিক অঞ্চল' হিসেবে ঘোষণা করে। আমরা ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বাড়িতেই ছিলাম। সেনাবাহিনীও সেখানে অবস্থান করছিল। তারা বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দেয় এবং পুরো এলাকাটি এমনভাবে অবরুদ্ধ করে ফেলে যে সেখানে কারো প্রবেশাধিকার ছিল না।''

এই এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে কালো কালিতে আঁকা ইংরেজি ক্রস চিহ্ন দেখা যায়। রমজান বলেন, যেসব বাড়ি ইসরাইলি বাহিনী উচ্ছেদের জন্য নির্ধারণ করে, সেগুলোতে এই চিহ্ন একে দেওয়া হয়। যাতে অবিলম্বে সেসব বাড়ি খালি করে দেওয়া হয়। ''এই এলাকায় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ পরিবার বাস করে। তারা আমার বাড়িতে দুটি 'ক্রস' চিহ্ন দিয়ে রেখেছিল। প্রতিবেশীরা চলে আসার পর, আমিই সবার শেষে এলাকাটি ত্যাগ করি। এর আধা ঘণ্টা পরই সেনাবাহিনী আমার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। আমি যখন জালাদাহ এলাকায় পৌঁছাই, তখন বিকট শব্দ, ভাঙচুরের আওয়াজ এবং কোনো কিছু ভেঙে ফেলার শব্দ শুনতে পাই। তারা সেখানে একটি ছোট ড্রোনও পাঠিয়েছিল। এরপর আমরা জালাদাহর দিকে চলে যাই।''

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) হেব্রনের কাছে ইয়াহুদা জংশনে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকদারীর হামলায় দুই ইসরাইলি সেনাসদস্য নিহত ও তিনজন আহত হন। এরপর সেই দুই ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী। হামলার পরপরই ইসরাইলি বাহিনী লোহাকপাটের গেট দিয়ে হেব্রনের সব প্রবেশ পথ বন্ধ করে দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অবরোধ আরোপ করে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

হেব্রনের আক্রমণস্থল এবং আশপাশের এলাকায় বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর ও অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ধ্বংসযজ্ঞ শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় আইনি নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, এক্ষেত্রে কোনো সুযোগ না দিয়েই ভাঙচুর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 

ইসরাইলের ডানপন্থী মন্ত্রিদের অনেকে এ ঘটনার জেরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা এবং গাজা ও লেবাননের মতো সর্বাত্মক অভিযানের দাবি তুলেছেন। তবে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ডানপন্থী নেতানিয়াহু সরকার এই হামলাকে ভোটের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

 

বিভি/এমএফআর

মন্তব্য করুন:

সর্বাধিক পঠিত