ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান-এর বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট খারিজ করেছেন ডেপুটি স্পিকার কাশিম খান। এটিকে সংবিধানের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। এতে পার্লামেন্টে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।এর আগে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির কাজ শুরু হতে দেরি হওয়ার কথা জানানো হয়। ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথাও বলেন ইমরান খান।
অনাস্থা পদক্ষেপের মাধ্যমে বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মোট ৩৪২ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে অন্তত ১৭২ জনের সমর্থন প্রয়োজন ছিলো। বিরোধী দলগুলো ১৭২-এর ‘ম্যাজিক’ নম্বর পেরিয়ে গিয়ে ১৭৪ জন সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে বলেও জানানো হচ্ছিলো।
এমনকি খোদ ক্ষমতাসীন পিটিআইয়ের ১২ জনের বেশি ভিন্নমতাবলম্বী ছাড়াই তা সম্ভব হয়েছে বলেও জানানো হয়। আরও বলা হয়, তারা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে তাদের সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ইমরান খান হাল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। শনিবার রাতে এক টিভি চ্যানেলের প্রশ্নোত্তরে ইমরান খান বলেন, শেষ মুহূর্তে কিছু চমক আসবে। তিনি শেষ বল পর্যন্ত খেলবেন। অনাস্থা প্রস্তাবকে তিনি বিদেশিদের প্ররোচনায় দুর্নীতিগ্রস্ত বিকিয়ে যাওয়া বিরোধীদের চাল বলে আখ্যায়িত করে আসছেন। ইমরান জনগণকে এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামারও আহ্বান জানিয়েছেন।
Pakistan National Assembly Deputy Speaker rejects the no-confidence motion against PM Imran Khan, declares it unconstitutional
— ANI (@ANI) April 3, 2022
(Source: PTV Parliament) pic.twitter.com/iDuaAIGlPJ
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী তাদের ক্ষমতার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে বাধ্য হয়েছেন ক্ষমতা ছাড়তে। ক্ষমতায় আসার সাড়ে তিন বছরের মাথায় পদ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও।
এমন অচলাবস্থার মধ্যেই পাকিস্তানের বিরোধীদের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে জোরপূর্বক ক্ষমতাচ্যুত করার অভিযোগ এনেছেন ইমরান খান। তার অভিযোগ, ওয়াশিংটন তাকে পদচ্যুত করতে চাইছে কারণ তিনি একটি স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছেন এবং ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি রাশিয়া সফর করেছেন।
সূত্র: ডন।
বিভি/এএন



মন্তব্য করুন: