গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ, এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ইশরাক হোসেন
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া সব সময় দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। আজ বাংলাদেশ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। তাই, এই নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি আগামী দিনে নির্বাচন কেমন হবে, কিভাবে হবে তা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রেও এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর বংশালে বাংলাদেশ পাইপ এন্ড টিউবওয়েল মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলে তিনি সব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, এই নির্বাচন যদি আমরা সুষ্ঠু, সঠিক ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পারি এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার বা ক্ষমতার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে আমরা যে কারণে লড়াই করেছি, একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য, তা বাস্তব রূপ পাবে।
তিনি আরও বলেন, যেই বাংলাদেশে প্রত্যেক পাঁচ বছর পরপর ভোটাররা ভোট দিয়ে সরাসরি তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবে এবং সেই নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়াটি প্রতিষ্ঠা পেতে হলে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আনা শুধু দলের নেতাকর্মীদের বিষয় নয়, এটাও জনগণকে বোঝাতে হবে। এটা বাংলাদেশের প্রয়োজনে, জনগণের প্রয়োজনে। আমাদের দলের দেশ পরিচালনার যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিদিনের যে সমস্যা রয়েছে, সবকিছু নিরসনের জন্য বিএনপির বিকল্প নেই। ধারে-কাছেও কোনো রাজনৈতিক দল নেই যাদের ন্যূনতম সেই পরিকল্পনা বা রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই কিছু কিছু আলামত দেখা যাচ্ছে যে প্রতিপক্ষ দল বিভিন্ন ধরনের ছলচাতুরি ও প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারে। এমনকি প্রশাসন ব্যবহার করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রভাবিত করার সুপ্ত পরিকল্পনাও তাদের থাকতে পারে। সেই জন্যে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা হঠাৎ করে এখানে আসিনি। আন্দোলন-সংগ্রাম ও লড়াই করে এই জায়গায় পৌঁছেছি। ২০১৪ সালের পর অন্য কোনো দলকে সেভাবে আন্দোলনে দেখেছেন? দেখেননি। ফজরের পর দৌড় মেরে মিছিল করে, আলো ওঠার আগেই উধাও হয়ে যাওয়া; এটাই ছিল তাদের রাজনৈতিক আন্দোলনের নমুনা।
৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা ফ্যাসিস্ট নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের ছায়াতল থেকে বের হয়ে এসে নতুন পরিচয়ে হাজির হয়েছে, তাদের আমরা দেখেছি। যেসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীরা জড়িত ছিল, আজকের অনেক তাদের থেকে বের হয়ে অন্য দল করছে, তারা কি জড়িত ছিল না?
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। কোনো মারামারি বা সংঘর্ষ নয়, আমরা চাই জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করুক। আমাদের এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ বিপুল ভোটে আমাদের জয়ী করবে, ইনশাআল্লাহ।
ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দিতেও আমরা প্রস্তুত। আমাদের নেত্রীর লড়াই পূর্ণাঙ্গ করব। শুধু সরকার প্রতিষ্ঠাই নয়, বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বংশাল থানা বিএনপির এক নম্বর যুগ্ম, আহবায়ক এবং সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ মামুন আহমেদসহ অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বিভি/পিএইচ



মন্তব্য করুন: