"ইত্যাদি" প্রচার হলো দাদা, কাঁদলো লুবাবা
বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তে এবার দাদা আব্দুল কাদেরের অনুপস্থিতিতে কাঁদল ছোট্ট লুবাবা। অভিনেতা আবদুল কাদের ‘ইত্যাদি’র মামা-ভাগনে বিভাগে মামার চরিত্রে নিয়মিত অভিনয় করতেন। ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে গত ২৬ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। শৈশবে বুঝতে শেখার পর থেকে লুবাবা দাদার সঙ্গে বসে অনুষ্ঠানটি নিয়মিত দেখতেন। শুক্রবার (গতকালও) দেখেছেন, তবে পাশে ছিলেন না তাঁর দাদা।
১০ বছরের লুবাবা নিয়মিতই 'ইত্যাদি' দেখত। অনুষ্ঠানটি প্রচারের খবর আগেই দাদা আবদুল কাদের তাকে জানাতেন। সেদিন সন্ধ্যা থেকেই অনুষ্ঠানটি দেখার অপেক্ষায় থাকতেন লুবাবা। আবদুল কাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইত্যাদি দেখতেন। লুবাবা সব সময় দাদার সঙ্গে বসে অনুষ্ঠানটি দেখত। এবার তার দাদা নেই। তাদের বাড়িতে নেই আগের সেই আমেজ। ইত্যাদি অনুষ্ঠানটির প্রচারের খবর লুবাবাকে প্রথমে জানানো হয়নি। দাদার মৃত্যু প্রায় এক মাসের মতো হয়ে গেলেও লুবাবা এখনো দাদার জন্য কান্না করে। নিয়মিত দাদার কবরের সামনে যায়। পরে সন্ধ্যার দিকে আবদুল কাদেরের স্ত্রী, লুবাবার দাদী ‘ইত্যাদি’ প্রচারের কথা জানিয়েছেন। তখন থেকেই লুবাবার মন খারাপ। সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অনুষ্ঠানটি দেখবে না।
একপর্যায়ে ইত্যাদিতে অভিনেতা আব্দুল কাদেরকে স্মরণ করা হয়। তখন কান্না করতে থাকে লুবাবা। শুক্রবার (২৯ জানুযারি) প্রচারিত ইত্যাদিতে নির্মাতা হানিফ সংকেত বলেন, ‘ভালো মানুষের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবদুল কাদের। যে অভিনয়ের মধ্যমে তিনি মানুষকে সৎ এবং ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার দীক্ষা দিয়েছেন প্রতিনিয়ত'।
অভিনেতা আবদুল কাদের 'ইত্যাদি'তে নিয়মিত প্রায় ২৫ বছর অভিনয় করেছেন। সর্বশেষ এ অভিনেতা অসুস্থ শরীর নিয়ে ইত্যাদির শুটিংয়ে অংশ নেন। সেবার দাদার সঙ্গে শুটিংয়ে যেতে চেয়েছিল লুবাবা। কিন্তু করোনার কারণে লুবাবাকে সঙ্গে নেননি আবদুল কাদের। পরে সেই অনুষ্ঠানটির প্রচার দাদার সঙ্গে দেখেছিল লুবাবা। তিন বছর বয়সে দাদার সঙ্গে অভিনয় শুরু করেছিল সে। দাদাই তাকে বুঝিয়ে দিতেন কোন দৃশ্যে কীভাবে অভিনয় করতে হবে।
অভিনেতা আবদুল কাদের গত ২৬ ডিসেম্বর মরণব্যাধি ক্যানসারের কাছে পরাজিত হয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি শুধু ইত্যাদির নিয়মিত শিল্পীই ছিলেন না। ছিলেন ইত্যাদি পরিবারের একজন সদস্য। জীবনের শেষ অভিনয়টুকুও তিনি করে গেছেন প্রিয় মামা চরিত্রে, ইত্যাদি অনুষ্ঠানে।



মন্তব্য করুন: