জুলাই আন্দোলনের অমোচনীয় প্রতিবাদের ভাষা গ্রাফিতি

দমন নিপীড়ন যখন চরম পর্যায়ে, প্রতিবাদের ভাষা তখন ধরন বদলায়। রাজপথে প্রকাশ্যে বিক্ষোভের পাশাপাশি প্রতিবাদের ক্যানভাস হয়ে ওঠে দেয়াল। গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্রের সেই ভাষার শক্তি কতো তীব্র হয়, জুলাই আগস্টের উত্তাল দিনগুলোই তার প্রমাণ। বছর ঘুরে দেয়ালে দেয়ালে সেসব চিত্র ঝাপসা হয়ে আসলেও ফ্যাসিবাদবিরোধী প্রতিবাদের এই স্লোগান ইতিহাসের অমোচনীয় দলিল হয়ে থাকবে।
‘আপনার কাছে যদি লড়াইয়ের কোনো হাতিয়ারই না থাকে, তবে গ্রাফিতি হয়ে উঠতে পারে একমাত্র অস্ত্র।’- বিখ্যাত মার্কিন শিল্পী ব্যাঙ্কসির কথাটির প্রতিধ্বনি ছিল জুলাইয়ের সেই দিনগুলোতে।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে যখন দমন-নিপিড়ন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন দেশের দেয়ালগুলো পরিণত হয় উত্তাল গণআন্দোলনের উন্মুক্ত ক্যানভাসে।
সেদিন ছিল ২৮শে জুলাই। এই দিনেই ঘোষণা হয় গ্রাফিতি কর্মসূচি। কোটা সংস্কার থেকে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগ পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহের রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের ইতিহাসে পরিণত হয় দেয়াল। যখন কেউ কথা বলতে পারছিল না, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, ভয়ভীতির সেই সময় সাহস জুগিয়েছে দেয়াল, দেয়ালগুলোই জানান দেয় ক্ষমতা নয়, জনতাই শক্তি।
এক বছরে হয়তো দেয়ালগুলোর চেহারায় পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু প্রতিবাদের সেই ভাষা একটুও দমেনি। ইতিহাসের পাতায় আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে ছড়িয়ে যাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অক্টোবরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপদেষ্টাদের নিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিস্মারক সেই দেয়ালগুলো দেখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তরুণ ও শিশু শিল্পীদের প্রতিবাদী দেয়ালচিত্রের ভাষায় অনুপ্রেরণা খুঁজে পান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার গ্রাফিতি নিয়ে ‘দি আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ নামের একটি আর্ট বুক প্রকাশ করা হয়। এই গ্রাফিতি বিপ্লবের দলিল হিসেবে গোটা বিশ্বের কাছে এরই মধ্যে স্বীকৃত।
গেল সেপ্টেম্বরের জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনে নিউইয়র্ক সফরের সময়ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস কানাডার প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের হাতে আর্ট বুকটির কপি তুলে দেন।
জুলাইয়ের সেই দিনগুলোতে, সরকারকে নানা শক্তিশালী বার্তা দিতে তারা বিভিন্ন সৃজনশীল ও হৃদয়গ্রাহী স্লোগান ও কবিতা লিখেছেন। সেই দিনগুলিতে ছাত্ররা দেশবাসীর সমর্থন আদায়ে দেয়ালে দেয়ালে ছড়িয়ে দেন মুক্তির বার্তা।
গ্রাফিতিতে রয়েছে রক্তের দাগ। এতে গণঅভ্যুত্থানের চিত্রে ফুটে উঠেছিল বদলে যাওয়া বাংলাদেশের গল্প। গ্রাফিতির সেই ভাষা সড়ক, দেয়াল আর মানুষের মনে জাগরুক থাকতেই দেয়ালের ভাষাগুলো বাস্তবায়িত হবে এমনটাই প্রত্যাশা জুলাই অভ্যুত্থানে জড়িতদের।
বিভি/টিটি
মন্তব্য করুন: