• NEWS PORTAL

  • মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য সুখবর

প্রকাশিত: ০০:৪৭, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ০০:৫০, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

ফন্ট সাইজ
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য সুখবর

খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারের জন্য মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পূর্বের মতোই বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ২০২৬–২৭ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতার হার ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গেছে।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের ওই বৈঠকে বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধীসহ মোট ১৫টি কর্মসূচির নতুন হার ও পরিসর নির্ধারণ করা হয়। পরে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পেনশন খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। পেনশন ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য বরাদ্দ ৮১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

বৈঠকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাসিক সম্মানী ভাতা এবং ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির কার্যপরিধির অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরে নতুন করে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৫ লাখ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার ব্যক্তি মাসিক ৭০০ টাকা এবং ৯০ বছরের বেশি বয়সী ২ লাখ ৫ হাজার ব্যক্তি মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

একই মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ লাখ। এর মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার নারী মাসিক ৭০০ টাকা এবং ৯০ বছরের বেশি বয়সী ২৫ হাজার নারী মাসিক ১ হাজার টাকা ভাতা পাবেন।

প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা দেড় লাখ বাড়িয়ে ৩৬ লাখ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসিক ৯০০ টাকা এবং ১৮ হাজার ১০০ জন মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির হার সব স্তরে ৫০ টাকা করে বাড়ানো হচ্ছে।

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার বাড়িয়ে ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জনে উন্নীত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকের মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির হার নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাত, জন্মগত হৃদ্‌রোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বাড়িয়ে ৬৫ হাজার করা হয়েছে। এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন করা হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।

বিভি/পিএইচ

মন্তব্য করুন: